...|...|...

বিশ্ব

যুক্তরাজ্য

ট্রেনে উচ্চ শব্দে গান বাজালে দেড় লাখ টাকা জরিমানা, বাসে ১৬ হাজার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৬ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৯
Shares
ট্রেনে উচ্চ শব্দে গান বাজালে দেড় লাখ টাকা জরিমানা, বাসে ১৬ হাজার

ছবি: সংগৃহীত

অসামাজিক আচরণ রোধে ট্রেনের ভেতর লাউডস্পিকারে বা উচ্চ শব্দে গান বাজানো যাত্রীদের ১ হাজার পাউন্ড (প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত জরিমানার হুশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। 

‘শেয়ার দ্য ক্যারেজ, নট দ্য নয়েজ’ শীর্ষক এই নতুন সরকারি ক্যাম্পেইনের আওতায় ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়াসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসচেতন ও বিরক্তিকর যাত্রীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রেল কোম্পানিগুলো যাত্রীদের হেডফোন ব্যবহার করার কথা মনে করিয়ে দিতে নিয়মিত ঘোষণা প্রচার করবে।

প্রধানমন্ত্রী এই সরকারি সমর্থিত ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্রেট ব্রিটিশ রেলওয়েসহ অন্যান্য ট্রেন কোম্পানিগুলো নেটজুড়ে নোটিশ টাঙিয়ে জানিয়ে দেবে যে, যত্রতত্র উচ্চ শব্দে গান বাজানো একটি অপরাধ।

নিয়ম অনুযায়ী, রেলকর্মীরা প্রথমে নিয়ম ভঙ্গকারী যাত্রীদের হেডফোন ব্যবহারের অনুরোধ করবেন। তবে তারা এই নির্দেশ অমান্য করলে পরবর্তী স্টেশনে তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে এবং বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে, যেখানে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। নির্দেশ অমান্যের এসব ঘটনা শুরুতে ট্রেন গার্ডরা সামলানো এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ-এর বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে, বাসগুলোর জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। বাসে উচ্চ শব্দে গান বাজানো যাত্রীদের পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ পাউন্ড জরিমানা করতে পারবে। বাসচালকরা সরাসরি নিয়ম প্রয়োগের দায়িত্বে না থাকলেও, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তারা পরিবহন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও পুলিশকে ডেকে পাঠাতে পারবেন।

জনগণের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত করার তাগিদ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই এমন ট্রেনে চড়েছি যেখানে কেউ তার ফোন থেকে উচ্চ শব্দে গান বা ভিডিও বাজাতে শুরু করে। এটি চরম বিরক্তির উদ্রেক করে এবং দ্রুত একটি সুন্দর ভ্রমণকে মাটি করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, তাই আমরা যাত্রীদের ট্রেনে হেডফোন ব্যবহারের কথা মনে করিয়ে দিতে দেশব্যাপী একটি ক্যাম্পেইন শুরু করছি। এর পাশাপাশি, আমরা স্থানীয় নেতাদের বাসে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, ভিপিং ও ময়লা ফেলা রোধে নতুন ক্ষমতা দিচ্ছি।

পরিবহন সচিব হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, অসচেতন কিছু মানুষের আচরণ যখন বাকিদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নষ্ট করে, তা সত্যিই হতাশাজনক; সেটা ভিপিং, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বা উচ্চস্বরে গান বাজানো যাই হোক না কেন।

শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্বেগ

তবে সরকারের এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন। তাদের মতে, এর ফলে গণপরিবহন কর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান লাঞ্ছনা ও সহিংসতার সুনামি আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

‘ইউনাইট’ ইউনিয়ন দাবি করেছে যে, বিঘ্নিত যাত্রীদের সামলানোর সময় বাসচালকদের যেন জরুরি সেবা কর্মীদের মতো সহিংসতার হাত থেকে সমান সুরক্ষা দেওয়া হয়। ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম বলেন, সরকারের এই প্রস্তাবগুলো সদিচ্ছাপ্রণোদিত হলেও বাসকর্মীরা প্রতিদিন যে চ্যালেঞ্জ ও সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন, তার মোকাবিলায় তা সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত।

ক্যাম্পেইনের প্রচার ও বার্তা

রেল ও বাস কোম্পানিগুলো তাদের সেবা, ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ক্যাম্পেইনের প্রচার চালাবে। পাশাপাশি ট্রেনে যাত্রীদের শোনার জন্য বিশেষ ঘোষণা রেকর্ড করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে পোস্টার টাঙানো হবে।

কর্মকর্তাদের দেওয়া একটি উদাহরণে বলা হয়েছে, এটি একটি বন্ধুসুলভ স্মরণিকা যে আপনি একটি অংশীদারিত্বের জায়গায় আছেন, তাই আশপাশের মানুষের কথা বিবেচনা করুন এবং গান শুনতে বা কল করতে চাইলে হেডফোন ব্যবহার করুন। আসুন আওয়াজ না বাড়িয়ে ক্যারেজ বা বগি ভাগাভাগি করি।