...|...|...

বিশ্ব

ট্রাম্প প্রশাসনে বড় রদবদল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৫
Shares
ট্রাম্প প্রশাসনে বড় রদবদল

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউসের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম পরিকল্পনাকারী স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এ নিয়োগের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা আগামী সোমবার থেকে নতুন দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

মিলার দায়িত্ব নিচ্ছেন হোয়াইট হাউসের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া ওয়াইলসকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে যুক্ত করা হচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটলেও প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে না। বরং কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ৪১ বছর বয়সী মিলারকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে বসানোকে ডেমোক্র্যাটদের সাথে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মিলারের নিয়োগের মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ নীতি ও রাজনৈতিক বিরোধ মোকাবিলায় আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারেন ট্রাম্প।

এদিকে মিলারের নিয়োগ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। প্রতিনিধি পরিষদের সম্ভাব্য পরবর্তী স্পিকার হাকিম জেফরিস তাকে ‘বেপরোয়া চরমপন্থি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া জানিয়েছেন, মিলারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অভিবাসননীতি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। একই সাথে সম্ভাব্য আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে মিলারকে এখন থেকেই আইনজীবী নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কে এই স্টিফেন মিলার?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন স্টিফেন মিলার। বিশেষ করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পেছনেও তার ভূমিকা ছিল। এ নীতির আওতায় দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসকারী অভিবাসীদেরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

শুধু অভিবাসননীতি নয়, মার্কিন প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনেও সক্রিয় ছিলেন মিলার। সরকারি ব্যয় কমানো ও আমলাতন্ত্র ঢেলে সাজানোর উদ্যোগে হাজার হাজার সরকারি কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মিলার। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতার পক্ষেও তার অবস্থানের কথা উঠে এসেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাটরা আগামী জানুয়ারিতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের তদন্ত এবং বাজেটসংক্রান্ত বিষয়ে চাপ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আপসহীন ও বিশ্বস্ত সহযোগী স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বসিয়ে ট্রাম্প কার্যত নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যকার বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।