একটি ট্রাকে থাকার কথা পণ্য, আরেকটিতে পরিবহনের মালামাল। কিন্তু খুলনায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষের অভিযানে আটক দুটি ট্রাক থেকে যে সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে, তাতে সামনে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
দুটি ট্রাক থেকে একসঙ্গে পাওয়া গেছে সিগারেট তৈরির মেকিং ও প্যাকিং মেশিন, জেনারেটর, হাওয়ার ট্যাংক, ফয়েল ও সিগারেট পেপার, ফিল্টার, গাম এবং বিপুল পরিমাণ কাটিং তামাক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জব্দ করা মালামাল দেখে এটিকে সিগারেট উৎপাদনের জন্য মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ কারখানার সেটআপ বলে মনে হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে ট্রাক দুটি আটক করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনার অধিক্ষেত্রাধীন ভ্যাট বিভাগ, বাগেরহাট।
পরে ট্রাক দুটি তল্লাশি করে একের পর এক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি সিগারেট মেকিং মেশিন, একটি প্যাকিং মেশিন, ৫০টি প্লাস্টিকের ক্যারেট ও একটি জেনারেটর।
সবচেয়ে বড় চালানটি ছিল কাটিং তামাকের। জব্দ করা হয়েছে ৫১ বস্তা তামাক। প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি হিসেবে মোট ১ হাজার ২৭৫ কেজি কাটিং তামাক পাওয়া গেছে।
তবে শুধু তামাকই নয়, সিগারেট তৈরির বিভিন্ন ধাপের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা উপকরণও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৬ রোল সিগারেট পেপার, পাঁচ কার্টন ফিল্টার পেপার, ৫৪ রোল ফয়েল পেপার, প্যাকেট তৈরির কাগজের ছয় বক্স এবং তিন ড্রাম গাম বা আঠা। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে একটি হাওয়ার ট্যাংক ও ১০০ পিস স্কচটেপ।
অভিযানে পাওয়া মেকিং ও প্যাকিং মেশিন দুটিও সম্পূর্ণ অবস্থায় এক জায়গায় ছিল না। এগুলো দুই অংশে পাওয়া যায়। ফলে এসব যন্ত্রপাতি কোথা থেকে এসেছে, কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এগুলো দিয়ে কোথায় সিগারেট উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছিল-তা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক যাচাইয়ে সরঞ্জামগুলোর সমন্বিত উপস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ সিগারেট উৎপাদন ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিলেও কোথায় এই কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল কিংবা জব্দ করা মালামালের প্রকৃত মালিক কারা, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এনবিআর জানিয়েছে, আটক ট্রাক ও জব্দ করা মালামালের প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই চলছে। একই সাথে এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জব্দ করা মালামাল বিধি অনুযায়ী এনবিআরের সদর দপ্তরের কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
তবে এই অভিযান শুধু ১ হাজার ২৭৫ কেজি তামাক উদ্ধারের ঘটনা নয়। দুটি ট্রাকে কেন একই সাথে সিগারেট তৈরির মেকিং মেশিন থেকে প্যাকিং মেশিন, কাঁচামাল থেকে প্যাকেট তৈরির কাগজ-প্রায় একটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন ব্যবস্থার সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছিল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এই চালানের গন্তব্য কোথায় ছিল, কারা এর সাথে জড়িত এবং এসব সরঞ্জাম দিয়ে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদনের কোনো প্রস্তুতি চলছিল কি না-তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

