কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের নাফ নদী ও উপকূলে একের পর এক অজ্ঞাতপরিচয় লাশ ভেসে আসছে।
সবশেষ রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট সংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীরে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ১৩ দিনের ব্যবধানে টেকনাফের নাফ নদী ও সীমান্ত উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। তবে এখনো মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হতেপারে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবির ঘটনায় এসব লাশ উপকূলে ভেসে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সম্প্রতি সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী দুটি ট্রলার মিয়ানমারের উপকূলে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে এসব লাশ হতে পারে।
টেকনাফ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া লাশগুলো মিয়ানমার থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ -১৫ দিন আগে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় লাশগুলো পচে বিকৃত হয়ে গেছে, ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ বা অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংঘাত কিংবা মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের লাশ স্রোতে ভেসে নাফ নদী ও টেকনাফ উপকূলে আসতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্ত চলছে।
এর আগে গত ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে তিন অজ্ঞাতপরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ১০ জুলাই শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন সৈকত থেকে আরও একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে গত ১৩ দিনে টেকনাফের সীমান্ত উপকূল ও নাফ নদী থেকে পাঁচটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়েছে। এদিকে একই সময়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও হিমছড়ি উপকূল থেকেও আরও দুটি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


