...|...|...

জাতীয়

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার উদ্যোগ নিল বিএসটিআই

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৩৭ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৩৩
Shares
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার উদ্যোগ নিল বিএসটিআই

ছবি: সংগৃহীত

টুথপেস্ট এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং এ সংক্রান্ত মান নির্ধারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫- এর সদস্য সেলিনা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধির আওতায় জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক টক্সিন থাকার দাবি করা হয়েছে, যা সরকার গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তবে ওই গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস কী কিংবা তা নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অসম্পূর্ণ গবেষণা তথ্যের কারণে জনমনে যাতে অহেতুক বিভ্রান্তি বা আতঙ্ক তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থেকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক এবং ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে একাধিকবার বৈঠকে বসেছে।

তিনি আরও জানান, কমিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাজার ও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (বিসিএসআইআর)।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক তুলনামূলকভাবে নতুন একটি পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা হওয়ায় বিএসটিআইয়ের প্রচলিত জাতীয় মানদণ্ডে এটি এতদিন সরাসরি অন্তর্ভুক্ত বা নিষিদ্ধ ছিল না। ফলে এই উপাদান শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষাগার সুবিধারও ঘাটতি ছিল সংস্থাটির।

তবে বর্তমানে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং একইসাথে এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।

তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে- টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক মাইক্রোবিড যুক্ত করা নিষিদ্ধ করা হবে, পণ্যে ব্যবহৃত উপাদানের সুস্পষ্ট ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা হবে, এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের একটি মানসম্মত পরীক্ষা পদ্ধতি জাতীয় মানের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা এবং তা পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিসিএসআইআরের পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের জাতীয় মান হালনাগাদ করা হবে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী।