মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর এলাকায় ২৮২ শতক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২৬ আগস্ট নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে চুনু লাল দাসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু দলবলসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশ রয়েছে বলেও দাবি করেন। পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ভুক্তভোগী ১৭টি পরিবারের ভাষ্য, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মো. নূরুল ইসলামের বাবা মৃত আব্দুল হাছিব ১৯৬৩ সালে জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিন্দ্র কুমার দাসের কাছ থেকে ২৮২ শতক জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকে তারা সেটি ভোগদখল করে আসছেন।
তাদের দাবি, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর জমিটি হিন্দু সম্পত্তি হিসেবে শত্রু সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার জমিটি বৈধভাবে বন্দোবস্ত দেয়। এরপর থেকে তারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলেরা ওই জায়গার মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে মৌলভীবাজারের সহকারী জজ আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা এবং যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মালিকানা ঘোষণার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা এই জমিতে বসবাস করছি। আমাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। এরপরও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি জায়গাটি আমাদের না হয়, তাহলে এতো বছর ধরে আমরা এখানে কীভাবে বসবাস করছি? আর যদি উচ্ছেদের রায় হয়ে থাকে, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ায় না এসে কেনো জোর করে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবো। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে চুনু লাল দাস দাবি করেন, এটি আমাদের জায়গা। আদালত উচ্ছেদের রায় দিয়েছে। তবে এমপির নির্দেশের কারণে তিনি উচ্ছেদে যাননি বলেও দাবি করেন তিনি। কাউকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও অস্বীকার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু ভিডিও বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তিনি মুঠোফোনে বলেন, এমপি সাহেব বলেছিলেন, তাই আমরা গিয়েছিলাম। আপনারা সঠিক কাগজপত্র দেখে রিপোর্ট করেন।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বলেন, এলাকায় হিন্দু ও মুসলিমদের যাতে জায়গা নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমি চেয়েছিলাম বিষয়টি উচ্ছেদ না হয়ে সমাধান হয়ে যায়। যেহেতু হয়নি, সেহেতু আমি তাদের আইন অনুযায়ী কাজ করার জন্য বলে দিয়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৭টি পরিবার এখানে দীর্ঘদিন ধরেই বসবাস করে আসছে। জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়া এবং আদালতে চলমান মামলার মধ্যে ১৭টি পরিবারের বসবাস ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



