সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিবেদনের বিষয়ে দল খোঁজখবর নিচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বহিষ্কার হলে কী হবে এমপি পদ?
প্রশ্ন উঠেছে, যদি জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না।
সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি কোনো সংসদ সদস্যকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে এবং পরে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানায়, তাহলে এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। অতীতে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল।
তবে দল যদি শুধু সাংগঠনিক পদ থেকে অপসারণ করে এবং স্পিকারের কাছে সদস্যপদ বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন না জানায়, তাহলে সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার নজিরও রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করায় তার এমপি পদ বহাল ছিল।
কেন আলোচনায় গাজী নজরুল?
সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাত থেকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে তাকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে দেখা যায়। পরে স্থানীয় জামায়াতের কয়েকজন নেতা দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা ওই তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।
এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেন গাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি দাবি করেন, ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট অবস্থান করেন।
এ মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামী বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও তথ্য যাচাই করছে। দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত গাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক ও সংসদীয় অবস্থান নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।



