ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া শহরে রাশিয়ার পাঁচটি গ্লাইড বোমার হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো এ হামলার তথ্য জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও জরুরি সেবাকর্মীরা। হামলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
জেলেনস্কি জানান, রাতের বেলায় ইউক্রেনের আরও ১৩টি অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে। ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেজিনা খারচেঙ্কো জানান, উদ্ধার অভিযানে ৮০ জনের বেশি কর্মী অংশ নিচ্ছেন। দিনভর এ কার্যক্রম চলতে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ বেঁচে আছেন কি না, তা বুঝতে মাঝেমধ্যে উদ্ধারকাজ থামিয়ে নীরবতা পালন করছেন কর্মীরা।
খারচেঙ্কো বলেন, ভবনটির নিচতলায় বোমা আঘাত হানে। এতে ওপরের তলাগুলো ধসে পড়ে। নিহত শিশুদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনা পরিবারগুলো ও পুরো শহরের জন্য গভীর শোকের।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে রুশ ডিজেল আমদানির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর মতে, এটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য উপহারের মতো এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি তৈরি করে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়াকে বুঝতে হবে যে যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন। এ জন্য যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতিও তাদের অনুভব করতে হবে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থিত জাপোরিঝিয়া শহরটি প্রায়ই রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের ক্রামাতোরস্কে দুটি বেসামরিক বাসে রুশ গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়। তার আগের দিন কিয়েভের পূর্বে প্রিলুকি শহরে আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচ শিশুসহ ২২ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোও নিয়মিত হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।



