জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে এক মাসের কারফিউ এবং অ্যালকোহল পানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় এক নারীকে হত্যা ও তার সর্বস্ব লুটের অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনা অভিযুক্ত হওয়ার পর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা প্রশিক্ষণ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা-র একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগি নামের এক স্থানীয় নারীকে হত্যা করে তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড-এর বিরুদ্ধে। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যালার্ড এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রয়টার্সের তথ্যমতে, তাইওয়ান ও চীনের নিকটবর্তী এই দ্বীপটিতে দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী বড় ধরনের মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি ও অসন্তোষ রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সেই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন যে এই ধরনের ঘটনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এই নির্দেশ জারি করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে প্রতিটি মিথস্ক্রিয়া আমাদের আস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে অথবা তা ধ্বংস করে। যখন সেই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তা আমাদের মৈত্রী জোটের শক্তি এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াটসন আরও জানান, ওকিনাওয়াতে সমস্ত মার্কিন সামরিক অভিযান আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হবে এবং এই সময়ের মধ্যে সেনারা মানদণ্ড ও শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নেবে।


