যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে যাওয়া শক্তিশালী এক প্রলয়ংকরী ‘নর’ইস্টার’ ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক বন্যা, তীব্র বাতাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় বেশ কিছু বড় কনসার্ট ও খেলাধুলা স্থগিত করা হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, মেইন থেকে শুরু করে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এই ঝড়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির গভর্নররা নিউ ইয়র্ক সিটিসহ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাউন্টিগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এই ঝড়টিকে গুরুত্বের সাথে নিন।
ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের তীব্র বাতাসের কারণে নিউ ইয়র্ক সিটি এলাকার তিনটি প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আমেরিকান এয়ারলাইন্স, জেটব্লু এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স যাত্রীদের জন্য পরিবর্তন ফি মওকুফ করেছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যকার ভ্রমণ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কিছু কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৫৫ মাইল বা ৮৮.৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে, যার ফলে সড়কে গাড়ি চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটির কর্তাব্যক্তিরা নিচু এলাকার বেসমেন্টে পানি জমা হওয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং যাতায়াতে চরম ভোগান্তির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এছাড়া মার্কিন যাত্রীবাহী রেল সংস্থা ‘অ্যামট্র্যাক’ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হতে পারে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন যখন শেষের পথে, ঠিক এই সময়ে সপ্তাহান্তে বিশ্ব সংস্থায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কানাডা, জার্মানি, ভারত ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের। আসন্ন এই ঝড় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক রসিকতা করে বলেন, জাতিসংঘ ভবনের বাইরে ও ভেতরে—উভয় জায়গাতেই বৈরী আবহাওয়া অতীতেও সয়ে গেছে এবং তা সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।


