বিশ্বকাপের মাঠে স্পেনের হয়ে খেলতে নামলেই নজর কাড়েন কোঁকড়ানো চুলের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। মাঠজুড়ে তার দৌড় আর গোলের পর পেঙ্গুইনের মতো উদযাপন তাকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।
সম্প্রতি চেলসি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া এই ফুটবলার সবসময়ই বলে আসেন, ফুটবলের চেয়েও পরিবার তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রী ক্লডিয়া রদ্রিগেজ ও তিন সন্তান—মাতেও, রিও ও বেলাকে নিয়েই তার জীবন।
তবে তারকা ফুটবলারের জীবনের আড়ালে রয়েছে এক কঠিন ব্যক্তিগত গল্প। বড় ছেলে মাতেওর অটিজম শনাক্ত হওয়ার পর বদলে যায় কুকুরেয়ার পুরো পরিবারের জীবন।
মাত্র তিন বছর বয়সে মাতেওর অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) ধরা পড়ে। এটি একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা, যা শিশুর যোগাযোগ, আচরণ ও শেখার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে কুকুরেয়া বলেন, মাতেও নার্সারিতে যাওয়ার পর তারা তার মধ্যে কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করেন। অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলার ছবিতে প্রায়ই তাকে একা দেখা যেত। পরে তারা বুঝতে পারেন, সে কথা বলছে না, স্বাভাবিকভাবে শব্দও করছে না।
কুকুরেয়া বলেন, “নিজের সন্তানকে কষ্ট পেতে দেখার চেয়ে কঠিন কিছু নেই। তবে মাতেও আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। সে আমাদের ধৈর্য, সহমর্মিতা ও জীবনের আসল গুরুত্ব বুঝিয়েছে।”
ছেলের অটিজম নিয়ে কথা বলা এখনো কুকুরেয়ার জন্য আবেগের বিষয়। তবে একজন পরিচিত ফুটবলার হিসেবে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নিজের অবস্থান কাজে লাগাতে চান তিনি।
কুকুরেয়া জানান, শুরুতে মাতেওর স্কুল থেকেও তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি। তার স্ত্রী ক্লডিয়া বলেন, সেই সময়টা ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি।
বর্তমানে পরিবারের সব পরিকল্পনাই করা হয় মাতেওর সুবিধার কথা মাথায় রেখে। কুকুরেয়ার ভাষায়, “চিকিৎসকেরা যখন জানান আপনার সন্তানের অটিজম আছে, তখন কোনো অভিভাবকই এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। আমাদের অনেক কিছু শিখতে হয়েছে, আর মাতেও-ও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।”
ফুটবল মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি, একজন বাবা হিসেবে ছেলের পাশে থাকার লড়াইটিই এখন মার্ক কুকুরেয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় গল্প।
সূত্র: বিবিসি


