বিদেশে গিয়ে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন ভৈরবের জাকির হোসেন। কঠোর পরিশ্রমের পর রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানে পেয়েছিলেন পদোন্নতি। স্ত্রীকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, এবার বেতন বাড়বে, ঋণ শোধ হবে, সংসারের কষ্টও কমবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবন।
রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণে নিহত ১৫ জনের মধ্যে ছিলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের জাকির হোসেন। গত বৃহস্পতিবার তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার জানায়, অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাত লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় পাড়ি জমান জাকির। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনার আশ্রয় নিতে হয়েছিল পরিবারকে।
রাশিয়ায় চাকরি করে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। তবে নিজের খরচ ও ঋণ পরিশোধের কারণে পরিবারকে খুব বেশি টাকা পাঠাতে পারতেন না। এরপরও পদোন্নতির খবর পেয়ে নতুন আশায় বুক বেঁধেছিলেন জাকির ও তার পরিবার।
জাকিরের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, পদোন্নতির পর স্বামী খুব খুশি ছিলেন। বলেছিলেন, ‘এবার আর কষ্ট থাকবে না, ঋণ শোধ হবে।’ কিন্তু সেই আনন্দের খবরের এক মাস না যেতেই স্বামীকে হারাতে হলো।
এখন জাকিরের বাড়িতে শুধু শোক আর অপেক্ষা- কবে দেশে ফিরবে তার লাশ। এক বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে স্ত্রী অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখার।
পরিবারের স্বজনরা দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। ভৈরব উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, লাশ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং পরিবারটিকে সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।


