সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে এক ইউপি সদস্যকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা সেরাজুল ইসলাম তোতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে ঘটে যাওয়া হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত তোতা সোনাখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন। প্রকল্পটির বিল থেকে বিএনপি নেতা সেরাজুল ইসলাম তোতা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) রোজিন পলাশ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোমবার বিকেলে চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে হট্টগোল সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে সরোয়ার হোসেনকে মারধর করে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ইউপি সদস্য।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, এক লাখ ৬৫ হাজার টাকার প্রকল্প। এর মধ্যে থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন তোতা। টাকা না দেওয়ায় পরিষদে ঢুকে আমাকে মারধর করেন এবং পরিষদে ঢুকলে হত্যার হুমকি দেন।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা সেরাজুল ইসলাম তোতা। তিনি বলেন, মেম্বারের সাথে পরিষদে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির নেতারা মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন।
ইউপি সচিব রোজিন পলাশ বলেন, ইউপি সদস্যের সাথে বিএনপি নেতা তোতার হট্টগোল হয়েছিল। তবে তাকে জড়িয়ে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার মিয়া বলেন, তার সামনেই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও দেখেছেন তিনি। বহিরাগত লোকজনের ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে ইউপি সদস্যকে মারধরের ঘটনা দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


