চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পোর্ট কানেক্টিং রোড সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ভুয়া নথিপত্র এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় চসিকের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম আদালতে অভিযুক্তরা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তা নাকচ করে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া অপর দুজন হলেন-ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) কুমিল্লা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সারোয়ার আলম এবং এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন শাখা প্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল। তবে মামলার মূল অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন উচ্চ আদালত থেকে আগেই জামিনে রয়েছেন।
মামলা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নথিসূত্রে জানা যায়, পোর্ট কানেক্টিং রোডের নিমতলা থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ পায় ‘মেসার্স রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড সালেহ আহমেদ (জেভি)’। তবে তৎকালীন ঠিকাদার জাকির হোসেন ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেখিয়ে ইউসিবিএল কুমিল্লা শাখায় ভুয়া ব্যাংক হিসাব খুলে ২০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেন, যা সুদে-আসলে দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৯২ হাজার ৮১৯ টাকা। পরবর্তীতে চসিকের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘন করে চেক ইস্যুর মাধ্যমে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইন জানান, দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা এ মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের (চার্জ শুনানির) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


