এক রাত ভালোভাবে ঘুম না হলে পরদিন ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ঘুমবঞ্চিত থাকার পর স্বল্প সময়ের ব্যায়াম কিংবা একটি নির্দিষ্ট সময়ের ঘুম স্মৃতিশক্তির ওপর ঘুমের ঘাটতির নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমাতে পারে।
কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় ৫৪ জন সুস্থ তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাদের ৩০ ঘণ্টা টানা জাগিয়ে রাখার পর তিনটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দল ২০ মিনিট সাইক্লিং করে, দ্বিতীয় দল ৯০ মিনিট ঘুমায় এবং তৃতীয় দল কোনো বিশেষ হস্তক্ষেপ ছাড়াই থাকে। এরপর অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ব্যায়াম করা এবং ৯০ মিনিট ঘুমানো
দুই দলের অংশগ্রহণকারীরাই কোনো হস্তক্ষেপ না পাওয়া দলের তুলনায় স্মৃতিশক্তির পরীক্ষায় প্রায় ২২ শতাংশ ভালো ফল করেন। অর্থাৎ, তীব্র ঘুমবঞ্চনার পরিস্থিতিতেও স্বল্প সময়ের ব্যায়াম বা ঘুম নতুন তথ্য মনে রাখার সক্ষমতা কিছুটা সংরক্ষণ করতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS)- এ।
ব্যায়াম ও ঘুম কাজ করে ভিন্নভাবে
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যায়াম ও ঘুম একই ধরনের ফল দিলেও মস্তিষ্কে তাদের প্রভাবের ধরন এক ছিল না।
গবেষকদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ৯০ মিনিটের ঘুম মস্তিষ্ককে পুনরায় সক্রিয় হতে সাহায্য করে। ফলে নতুন তথ্য গ্রহণ ও মনে রাখার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। অন্যদিকে, ব্যায়াম মস্তিষ্কের অবশিষ্ট সম্পদকে আরও দক্ষভাবে ব্যবহারে সহায়তা করেছে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গবেষকদের মতে, যেসব পেশায় দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় যেমন স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন বা জরুরি সেবা সেখানে ক্লান্তি ও ঘুমের ঘাটতি ভুলের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ঘুমের সুযোগ না থাকলে স্বল্প সময়ের শারীরিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে ক্লান্তি ব্যবস্থাপনার একটি সম্ভাব্য কৌশল হতে পারে।
তবে ব্যায়াম ঘুমের বিকল্প নয়
গবেষণার ফলকে ‘ঘুমের বিকল্প’ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। গবেষকেরাও স্পষ্ট করেছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা ব্যায়াম পূরণ করতে পারে না। ব্যায়াম বা স্বল্প সময়ের ঘুম মূলত ঘুমের ঘাটতির কারণে সাময়িকভাবে কমে যাওয়া কিছু জ্ঞানীয় সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি স্মৃতি ও অন্যান্য জ্ঞানীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি বিপাকীয় ও হৃদ্স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই এক রাত কম ঘুম হলে পরদিন স্বল্প সময়ের ব্যায়াম বা উপযুক্ত ন্যাপ কিছুটা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু নিয়মিত অপর্যাপ্ত ঘুমের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার উপায় এটি নয়।
তাহলে কী করবেন?
কোনো কারণে এক রাত ঘুম কম হলে, শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা পরিস্থিতি অনুযায়ী হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করতে পারেন। একইসাথে দিনের উপযুক্ত সময়ে স্বল্প সময়ের ন্যাপও ক্লান্তি ও সতর্কতা সাময়িকভাবে কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত দীর্ঘ বা দেরিতে নেওয়া ন্যাপ রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
রাইসা মেহজাবীন
বিএসসি. (অনার্স), ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এমপিএইচ (ইন প্রগ্রেস), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
পিজিটি অন নিউট্রিশন অ্যান্ড ফিটনেস ট্রেনিং, ইনস্পিরন ফিটনেস অ্যান্ড ডায়েট কনসালটেন্সি সেন্টার
ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, ফিটনেস ট্রেনিং, ইনস্পিরন ফিটনেস অ্যান্ড ডায়েট কনসালটেন্সি সেন্টার, ধানমন্ডি
চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, নিউট্রিশন ফর চেঞ্জ


