...|...|...

জাতীয়

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস

গ্রেফতার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৪৫ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৪৯
Shares
গ্রেফতার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী

ছবি: সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৩। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনই সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মচারী। তদন্তসংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ অধিদফতরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অফিস সহায়ক। এ ছাড়া দুজন চাকরিপ্রত্যাশীও রয়েছেন।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, বিভিন্ন সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করলেও এ বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময় থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদফতরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে ইমদাদুল ইসলামকে এবং এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও বার্তা বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সাভার থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে এসআরবি-৪। পরে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের পক্ষ থেকে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস, অর্থ লেনদেনের পরিধি এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।