...|...|...

বিশ্ব

গ্রিসের দ্বীপে বসবাস করলেই মিলবে ১৪ লাখ টাকা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৭
Shares
গ্রিসের দ্বীপে বসবাস করলেই মিলবে ১৪ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

জনসংখ্যা হ্রাসের দীর্ঘদিনের প্রবণতা রোধে দেশটির সীমান্তবর্তী জনবহুলহীন অঞ্চল এবং ছোট দ্বীপগুলোতে বসবাসকারী কিংবা নতুন স্থানান্তরিত হওয়া পরিবারগুলোর জন্য নতুন আর্থিক প্রণোদনা চালু করেছে গ্রিস। এর আওতায় পরিবারগুলো ১০ হাজার ইউরো (১৪ লাখ ৯ হাজার টাকা) পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবে।

তুর্কি টুডের তথ্যমতে, এই উদ্যোগের আওতায় তুরস্ক ও বুলগেরিয়ার সীমান্তবর্তী এভ্রোস অঞ্চল থেকে শুরু করে ছোট ইজিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন জনবসতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া পরিবার, সরকারি চাকরিজীবী, চিকিৎসক ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা আলাদা সহায়তা কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গ্রিক সরকারের এই স্থানান্তর প্রণোদনা কর্মসূচিটি সর্বপ্রথম এভ্রোস অঞ্চলে চালু করা হয়, যা তুর্কি ভাষায় মেরিক অঞ্চল নামে পরিচিত।

এখানকার নির্বাচিত জনবসতিগুলোতে যেসব পরিবার স্থানান্তরিত হবে, তারা ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী, ৫০০ বা তার কম জনসংখ্যা রয়েছে এমন জনবসতিতে যারা স্থানান্তরিত হবেন তারা ১০ হাজার ইউরো পাওয়ার যোগ্য হবেন।

অন্যদিকে, বড় সম্প্রদায়গুলোতে স্থানান্তরিত হওয়া ব্যক্তিরা পরিবারের শিশুসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সমপরিমাণ অর্থ পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জনসংখ্যা হ্রাসের শিকার অন্যান্য সীমান্ত অঞ্চলেও এই স্কিমটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। তাছাড়া প্রবাসী গ্রিক ও তরুণ পরিবারগুলোও এই প্রণোদনার লক্ষ্যভুক্ত গোষ্ঠীগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী কিয়াকোস মিৎসোটাকিস কাস্টেলোরিজোর—যা তুরস্কে মেইস নামে পরিচিত—জন্য একটি পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় দ্বীপটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বা নতুন স্থানান্তরিত হওয়া প্রতিটি পরিবার প্রতি বছর ৫,০০০ ইউরো করে পাবে। প্রতিটি শিশুর জন্য এই অর্থ ১,০০০ ইউরো করে বাড়বে, তবে এর জন্য প্রাপকদের অবশ্যই অন্তত এক বছর ওই দ্বীপে বসবাস করতে হবে। বর্তমান বাসিন্দারা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের প্রথম অর্থ পেতে শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, আর নতুন আগতদের জন্য পেমেন্ট শুরু হবে ২০২৮ সাল থেকে এবং তা বার্ষিকভাবে অব্যাহত থাকবে। কাস্টেলোরিজোতে দায়িত্বরত সরকারি কর্মচারী, নিরাপত্তা কর্মী এবং সামরিক স্টাফরাও প্রতি বছর অতিরিক্ত ৫,০০০ ইউরো করে পাবেন।

এদিকে, পুরোনো বাড়িগুলো সংস্কার করে চিকিৎসক, শিক্ষক, কোস্ট গার্ড কর্মী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বিনামূল্যে বসবাসের জন্য প্রদান করা হবে।

প্রসঙ্গত, জনসংখ্যা হ্রাস রোধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নিসিরোস পৌরসভা—যা তুর্কি ভাষায় ইনসিরিয়াদা নামে পরিচিত—প্রতিটি নতুন জন্মের জন্য এককালীন ৩,০০০ ইউরো দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। এই অর্থ পাওয়ার জন্য পরিবারগুলোকে অবশ্যই দ্বীপটির স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং শিশুর জন্মলগ্নে পৌরসভার খাতায় নাম নিবন্ধিত থাকতে হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বীপটিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের বয়স পাঁচ বছর না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য প্রতি মাসে ১৫০ ইউরো ভাতার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।

এদিকে, যে দ্বীপগুলোতে জনবল সংকট একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের আকৃষ্ট করতে স্থানীয় প্রশাসনগুলো অতিরিক্ত নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সিফনস দ্বীপে চিকিৎসকদের বিনামূল্যে আবাসন, প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৩০০ ইউরো এবং প্রতি মাসে দুটি করে ফ্রি রাউন্ড-ট্রিপ বা যাওয়া-আসার ফেরি টিকিট দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি এবং সুয়ারেজের মতো মৌলিক গৃহস্থালি খরচও বহন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইজিয়ানের অসংখ্য স্বাস্থ্য সুবিধা কেন্দ্রকে কভার করে এমন একটি কর্মসূচির আওতায় গ্রিসের অন্যান্য স্থানের নির্দিষ্ট কিছু দ্বীপে ও দূরবর্তী অঞ্চলে সাময়িকভাবে নিয়োজিত চিকিৎসকরা এক মাসের কাজের জন্য অতিরিক্ত ২,১০০ ইউরো পেমেন্ট পেতে পারেন।

এছাড়া বেশ কিছু দ্বীপে শিক্ষকদের জন্যও আবাসন ভাড়া, খাদ্য ও যাতায়াত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নবনিযুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকগণ ফেরি টিকিটে ৫০% পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন।