...|...|...

বিশ্ব

ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরো

গাজায় ৮২ শতাংশ ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩১ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩২
Shares
গাজায় ৮২ শতাংশ ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় অবরুদ্ধ এই উপত্যকার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গাজায় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এই ছিটমহলের মোট ভবনের প্রায় ৮২ শতাংশ।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, ১৩ হাজার ৮৪৮টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬২৭টি আবাসিক ইউনিট ক্ষতির মুখে পড়েছে।

আনাদোলু এজেন্সি বলছে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

জলের ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোও এই ধ্বংসযজ্ঞের বাইরে নয় উল্লেখ করে পিসিবিএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ নাগাদ এর প্রায় ৯০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গাজার ৮২ শতাংশ পরিবার বর্তমানে তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি রয়েছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন মাথাপিছু মাত্র ৬ লিটার (১.৬ গ্যালন) পানি পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় আরও ১ হাজার ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৭২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি (যার মধ্যে ২১ লাখ ১৫ হাজারই বাস্তুচ্যুত মানুষ) বসবাস করা গাজায় প্রবেশে পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, আশ্রয়ের উপকরণ এবং প্রিফেব্রিকেটেড ঘর সরবরাহে এখনো বাধা দিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও চলতি বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, দখলদারদের আক্রমণ, ভূমি জবরদখল ও বাস্তুচ্যুতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিসিবিএস।

কলনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩৪১টি উচ্ছেদ ও ভাঙচুর অভিযান চালিয়েছে। এর ফলে ৭৪০টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈধ অনুমতির অভাবের অজুহাতে আরও ২৫৪টি ভবন ভাঙার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম তীরেও হত্যা, গ্রেফতার, বাস্তুচ্যুতি, বাড়িঘর ভাঙচুর, জমি সমান করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মতো আক্রমণ তীব্রতর করে তুলেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও দখলদাররা।