...|...|...

খুলনা

খুলনায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৫৬
Shares
খুলনায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

খানজাহান আলী থানা, খুলনা। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার তেলিগাতী এলাকায় চুরির অপবাদ দিয়ে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত যুবকের নাম সাজমীর (২২)। তিনি তেলিগাতী এলাকার রুহুল কুদ্দুসের ছেলে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে কুয়েটের এক সাবেক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও ভারতীয় রুপি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাজমীরকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মারধর করেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন রোববার পরিবারের সদস্যরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মারধরের ঘটনাটি ঘটলেও ঘটনার পর থেকে সাজমীরের পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি।

খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, কুয়েটের সাবেক এক ছাত্রের মোবাইল ফোন ও ভারতীয় রুপি চুরির অভিযোগে গত শনিবার রাতে স্থানীয় কিছু যুবক সাজমীরকে মারধর করে। পরদিন তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

ওসি বলেন, ঘটনার পর পরিবার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেনি। তাদের থানায় অভিযোগ করার জন্য বলা হলেও তারা অভিযোগ করেনি।

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে মারধর করার সুযোগ নেই। সাজমীর সত্যিই কোনো চুরির সাথে জড়িত ছিলেন কি না, নাকি কেবল সন্দেহ বা অপবাদের ভিত্তিতে তাকে মারধর করা হয়েছে। এখন সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কারা তাকে মারধর করেছিল, ঠিক কোথায় মারধর করা হয়, কীভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং হাসপাতালে ভর্তি করার সময় চিকিৎসকদের কাছে কী ধরনের ইতিহাস দেওয়া হয়েছিল।

সাজমীরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পেতে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতালের ভর্তি রেকর্ড, চিকিৎসা নথি এবং সংশ্লিষ্ট কুয়েট সাবেক শিক্ষার্থীর বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

এ ঘটনায় ‘চুরির অভিযোগ’কে সত্য হিসেবে নয়, পুলিশের বর্ণিত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সাজমীরের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।