খাগড়াছড়িতে নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সম্প্রতি জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ এবং সড়কে গাছ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলাও রয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মাহফুজ জুয়েল, সুজন বিশ্বাস, মো. সাকিল, মো. রুবেল ও লিটন চৌধুরী।
পুলিশের ভাষ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে বিস্ফোরক পদার্থজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষতিসাধন ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এর দুই দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার বড়পাড়া এলাকায় সরকারি বন বিভাগের গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে অবরোধ কর্মসূচি পালনের অভিযোগ ওঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, এসব ঘটনায় মামলা হওয়ার পর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সদর থানা-পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক মাহফুজ জুয়েলের বিরুদ্ধে আগের পাঁচটি মামলা রয়েছে। সুজন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আগের তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি মামলা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা। আর মো. রুবেলের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, আটক পাঁচজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায় কিসলু বলেন, সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


