...|...|...

বিশ্ব

ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে নজিরবিহীন হ্যাকিং, চুরি ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২২
Shares
ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে নজিরবিহীন হ্যাকিং, চুরি ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি

ছবি: সংগৃহীত

ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স। বৃহস্পতিবারের এই সাইবার হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাকি ১০ শতাংশ ঘাটতি পূরণে আরও সময় লাগতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের শতভাগ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাইন্যান্স। এ জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স বলেছে, ‘চুরি হওয়া সম্পদের আর্থিক ক্ষতির দায় বাইন্যান্স বহন করবে, আমাদের ব্যবহারকারীরা নয়।’ প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বিভিন্ন তহবিল ও নিজস্ব কোষাগার থেকে অর্থ ব্যবহার করে চুরি হওয়া সম্পদের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ও টেথারসহ আরও সাতটি বহুল লেনদেন হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সির সম্পদ এই ক্ষতিপূরণের আওতায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই শনিবার জানিয়েছে, এই হ্যাকিংয়ের পেছনে উত্তর কোরিয়া দায়ী। সংস্থাটি হামলার সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকার গোষ্ঠী লাজারাস গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেছে। গোষ্ঠীটি ট্রেডারট্রেইটার নামেও পরিচিত।

এর আগে দুটি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিবিসিকে জানিয়েছিল, লাজারাস গ্রুপ এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে তাদের কাছে জোরালো গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তবে সাইবার হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে উত্তর কোরিয়া।

বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে অননুমোদিতভাবে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়। তবে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের আরও কিছু পথ শনাক্ত করা হয়েছে।

বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেন, একাধিক ব্যক্তি মিলে এই হ্যাকিং চালিয়েছে। নিজেদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের চিহ্ন আড়াল করতে হ্যাকাররা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা বা ‘সেলফ-ডেস্ট্রাক্ট মেকানিজম’সহ অত্যাধুনিক কৌশল ব্যবহার করেছে।

শুক্রবার বাইন্যান্স জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে চুরি হওয়া প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস শুক্রবার জানিয়েছে, বাইন্যান্স থেকে চুরি হওয়া অর্থ শনাক্ত, জব্দ, লেনদেনের গতিপথ অনুসরণ এবং উদ্ধারে বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে দিনরাত কাজ করছে তারা।

হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ব্যবহারকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলন সেবা পুনরায় চালু করাকে এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাইন্যান্স। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বিস্তারিত নিশ্চিত হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানানো হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

ধারণা করা হচ্ছে, এটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির ঘটনাটি ছিল এ যাবতকালের সবচেয়ে বড়। ওই ঘটনার জন্যও উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছিল এফবিআই।

হ্যাকিংয়ের ঘটনা ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও প্রভাব ফেলে। শুক্রবার নিউইয়র্কে লেনদেনের সময় বিটকয়েনের দাম ৫ শতাংশ কমে ৭৬ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে আসে।

২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল সম্পদ কেনাবেচা ও লেনদেনের সুযোগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ২০২৪ সালে বাইন্যান্স জানিয়েছিল, তাদের তত্ত্বাবধানে ১৬ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ রয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি একধরনের ডিজিটাল সম্পদ, যার কোনো বাস্তব বা ভৌত অস্তিত্ব নেই। ডিজিটাল ওয়ালেট কিংবা কম্পিউটারের মাধ্যমে এসব সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয়।