ভারতের ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসওয়ান জেলায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গিয়ে থানার ভেতরেই এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, গত ২৯ অক্টোবর রাতে গামহারিয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারীর জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বামীর সাথে তাঁর ঝগড়া হয়। স্বামী তাঁকে মারধর করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তিনি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মোবাইল ফোনে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল ভ্যান তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
থানায় পৌঁছানোর পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বিশ্রামের জন্য একটি কক্ষে থাকতে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষে অবস্থানকালে থানার ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে কর্মরত এক কনস্টেবল তাঁকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলা, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গামহারিয়া থানার ওসি এবং আরও চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত কনস্টেবলসহ বরখাস্ত হওয়া পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সময় অভিযুক্ত কনস্টেবল যে পোশাক পরেছিলেন, তা জব্দ করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য সেগুলো রাঁচির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, এ ঘটনায় রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোটের সমালোচনা করেছে বিরোধী দল বিজেপি। দলটির দাবি, রাজ্যে এ ধরনের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে জবাবদিহির অভাব রয়েছে।
ঝাড়খণ্ড বিজেপির সভাপতি আদিত্য সাহু অভিযোগ করেন, পুলিশ কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে পছন্দমতো জায়গায় পোস্টিং ও বদলি নিশ্চিত করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় পুলিশ কর্মকর্তারা বালি, আকরিক লোহা ও কয়লা চুরিতে সহায়তা করছেন।


