ক্যারিয়ারে সফলতা পেতে শুধু দক্ষতা থাকলেই হয় না, এর পাশাপাশি থাকতে হয় সততা ও বিশ্বস্ততা। মানুষের পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার জন্য এই দুটি গুণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে পবিত্র কোরআনে।
হজরত মূসা (আ.)-এর মাদইয়ানে অবস্থানের একটি ঘটনা থেকে বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি যখন মাদইয়ানে পৌঁছান, তখন ছিলেন অসহায় ও প্রবাসী। তাঁর কোনো চাকরি, পরিচিতি কিংবা থাকার নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না।
একদিন তিনি একটি কূপ থেকে পানি তুলতে গিয়ে দুই নারীকে সাহায্য করেন। ওই নারীরা ছিলেন এক বৃদ্ধের মেয়ে। মূসা (আ.)-এর কাজ ও আচরণে মুগ্ধ হয়ে তাঁদের একজন বাবাকে তাঁকে কাজে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনার জন্য উত্তম কর্মচারী হবে সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’
পবিত্র কোরআনের সুরা কাসাসের ২৬ নম্বর আয়াতে বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইন্না খাইরা মানিসতাজারতাল কাওয়িয়্যুল আমিন।’
এখানে ‘আল-কাওয়ি’ বলতে বোঝানো হয়েছে শক্তিশালী, দক্ষ ও কাজ সম্পাদনে সক্ষম ব্যক্তিকে। অন্যদিকে ‘আল-আমিন’ অর্থ বিশ্বস্ত, সৎ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি।
এই দুটি গুণের সমন্বয় একজন মানুষকে কর্মক্ষেত্রে যোগ্য করে তোলে। কারণ, দক্ষতা থাকলেও সততা না থাকলে একজন কর্মী প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির কারণ হতে পারেন। আবার সততা থাকলেও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তাই কর্মজীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে দক্ষতা ও বিশ্বস্ততা দুটিই অর্জন করা জরুরি। নিজের কাজের ক্ষেত্রে কোন গুণটির ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


