যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন বিপর্যয় এবং তীব্র জনরোষের পেছনে ইরান আক্রমণের প্রভাব এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজের নেওয়া এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ও সঠিক অ্যাখ্যা দিয়ে নির্বাচনের এই শোচনীয় পরাজয়ের দায় নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবারে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিটক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমাদের অর্থনীতি আসলে বিশ্বের মধ্যে সেরা। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষ সেটি সেভাবে দেখতে পারছে না, যা এই পরিস্থিতি ছাড়া দেখতে পারত। আর তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ ছিল ইরান।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিষয়ে আমি যা করছি, সাধারণ মানুষ তা সমর্থন করে। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার মতো স্বল্পমেয়াদি কষ্টটি তারা সম্ভবত মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। আমি তা বুঝতে পারছি, যদিও আমি তা সমর্থন করি না।
পরবর্তীতে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সাথে আলাপকালে ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, আমি একদম সঠিক কাজ করেছি। সুযোগ পেলে আমি আবারও একই কাজ করতাম।
রাজনৈতিক কৌশলবিদ জেমস ডেভিস আল জাজিরাকে জানান, এই যুদ্ধ দলের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং ভোটারদের ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে পড়তে সাহায্য করেছে। তবে তার মতে, মূল সমস্যা শুধু যুদ্ধ নয়, বরং সেই কৌশল জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে না পারা। জ্বালানি ও ডিজেলের দাম বাড়ার মতো অর্থনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রার্থীদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন ট্রাম্প
নিজের কৌশলগত কোনো ব্যর্থতা স্বীকার না করে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ব্যালটে ছিলেন না বলেই ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি তো টিকিটে ছিলাম না, আর না থাকার কারণেই আমরা পর্যাপ্ত ভোটার জড়ো করতে পারিনি।
পাশাপাশি নিজ দলের পরাজিত প্রার্থীদের ত্রুটিপূর্ণ প্রচারণার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, আমি যাদের মনোনয়ন দিয়েছিলাম, তাদের অনেকেই আমার বিরোধিতাচরণ করেছে। তাদের বেশ কিছু ঘাটতি ছিল এবং ভোটারদের কাছেও তারা গ্রহণযোগ্য ছিল না।
বিশেষ করে টেক্সাসের গভর্নরের আকস্মিক পরাজয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট যদি তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ ছয় মাসে ‘রিনো’ (শুধুমাত্র নামে রিপাবলিকান) হয়ে না উঠতেন, তবে তাকে হারতে হতো না।
আগামী দুই বছরের শাসনপদ্ধতির আগাম ইঙ্গিত দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়া কংগ্রেসের যেকোনো আইন বা বিল আটকে দেওয়ার দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করে নিজের ‘ভেটো’ লেখা প্রতীকী লাল ক্যাপের ছবিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন ট্রাম্প।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, ভোটারদের এই কঠোর বার্তার পরও তিনি তার মন্ত্রিপরিষদে কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন না। তার ভাষায়, এর সাথে আমার ক্যাবিনেটের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। আমার মনে হয়, বাতাসে তখন অন্য এক মেজাজ বইছিল।
সবশেষে কিছুটা নমনীয় সুর প্রকাশ করে ট্রাম্প জানান, তিনি ডেমোক্র্যাটদের সাথে মিলে কাজ করতে চান, তবে নিজের অবস্থানেও অনড় থাকবেন। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস আমরা ডেমোক্র্যাটদের সাথে কাজ করতে পারব এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। যদি তা না হয়, তবে আমরা তাদের ছাড় দেব না, তারাও আমাদের ছাড় দেবে না। তবে শিশুদের ওপর লিঙ্গ পরিবর্তন সংক্রান্ত চিকিৎসা বা অন্যান্য নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে তিনি কোনো আপস করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।


