কুয়াকাটা উপকূলে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে দেখতে বেশ অদ্ভুত আকৃতির একটি সামুদ্রিক মাছ। স্থানীয়ভাবে পরিচিত না হওয়ায় প্রথমে মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করতে পারেননি জেলেরা। পরে জানা যায়, মাছটি 'স্লেন্ডার সানফিশ', যার বৈজ্ঞানিক নাম র্যানজানিয়া লেভিস।
রবিবার সকালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সাথে এটি জালে উঠে আসে। অস্বাভাবিক গড়ন, লম্বাটে শরীর এবং ছোট নলের মতো মুখের কারণে মাছটি অন্য মাছের তুলনায় সহজেই আলাদা করে চেনা যায়।
প্রায় ২ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের মাছটি পরে পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের একটি আড়তে নেওয়া হয়। অচেনা ধরনের মাছটি দেখতে সেখানে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়।
পরে মাছটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কুয়াকাটায় ধরা পড়া এই সামুদ্রিক প্রাণীটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
স্লেন্ডার সানফিশ কেমন মাছ?
স্লেন্ডার সানফিশ সামুদ্রিক সানফিশ গোত্রের একটি মাছ। এর শরীরের গঠন প্রচলিত অনেক সামুদ্রিক মাছের তুলনায় আলাদা। বিশেষ করে শরীরের আকৃতি ও মুখের গড়নের কারণে এটি সহজেই নজর কাড়ে।
সানফিশ গোত্রের মাছ সাধারণত সমুদ্রের বিভিন্ন স্তরে বিচরণ করে। তাই বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের মাছের উপস্থিতি একেবারে অস্বাভাবিক কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
বঙ্গোপসাগরে পাওয়া কি অস্বাভাবিক?
কুয়াকাটার জালে মাছটি ধরা পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে কোনো মাছের একটি নমুনা উপকূলীয় এলাকায় ধরা পড়লেই সেটিকে ওই অঞ্চলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।
সামুদ্রিক মাছের বিচরণ, পানির তাপমাত্রা, খাদ্যের প্রাপ্যতা ও সমুদ্রস্রোতের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে অনেক সময় কোনো প্রজাতির মাছ স্বাভাবিক বিচরণ এলাকার বাইরে চলে আসতে পারে।
মাছটি কি খাওয়া যায়?
স্লেন্ডার সানফিশ মানুষের জন্য ক্ষতিকর কি না কিংবা এটি খাদ্য হিসেবে নিরাপদ কি না, শুধু বাহ্যিক আকৃতি দেখে তা নিশ্চিত করা যায় না। কোনো অচেনা সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার আগে এর প্রজাতি সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং খাদ্য হিসেবে নিরাপদ কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


