...|...|...

খুলনা

কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গভীর রাতে আগুন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০১ | আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:১১
Shares
কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গভীর রাতে আগুন

কুষ্টিয়া শহরের শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে নবনির্মিত 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে' আগুন দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দিনগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই ঘটনার পেছনে জড়িত বলে স্থানীয় ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে অগ্নিকাণ্ড ও এর পরবর্তী মুহূর্তের একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি অগ্নিসংযোগের স্থান থেকে রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনা আসবে—বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই, জয় বাংলা—জয় বঙ্গবন্ধু।’

একই সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের স্মরণে স্লোগান দিয়ে বলা হয়, ‘হানিফ সাহেবের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই; কামারুল ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই।’

ভিডিওতে উক্ত ব্যক্তি আরও বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে জঙ্গিবাদীরা আমার নেত্রীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, যেতে বাধ্য করেছে। আমরা এই জুলাই মানি না, কখনও মানবো না। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, আমরা শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে ইনশাল্লাহ ওয়েলকাম করে নিয়ে আসবো।’

ঘটনার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক ও নেতা আলমাস হোসেন বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত একটি ঘটনা। শহিদদের স্মৃতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীককে অপমান করতেই রাতের আঁধারে এই ন্যাক্কারজনক কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভে এমন হামলা হতে পারে বলে আমাদের কাছে আগেই খবর ছিল এবং বিষয়টি আমরা আগেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় দুর্বৃত্তরা এই সুযোগ পেয়েছে।’

এদিকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার এবং কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পুলিশ কর্মকর্তাগণ ক্ষতিগ্রস্ত স্মৃতিস্তম্ভটি আলামত হিসেবে পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি বিনষ্টকারী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।