চট্টগ্রাম নগরে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে মধ্যরাতে এক প্রবাসীর বাসভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্লক করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, অবসরপ্রাপ্ত হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। তার মূল বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলায়। বড় ছেলে মোহাম্মদ শওকত বর্তমানে দুবাই প্রবাসী। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আজিজ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউসুফ বলেন, ‘সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে তার ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ আসে। কলদাতা নিজেকে কাতার থেকে পরিচয় দিয়ে তাদের সহায়-সম্পত্তির হিসাব টেনে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে রাজি হলে পরে ঠিকানা জানানো হবে বলেও জানানো হয়। তবে শওকত ওই নম্বরটি সাথে সাথে ব্লক করে দেন।
পরিবারের দাবি, এর জের ধরেই রাত সাড়ে ১০টার পর দুজন সশস্ত্র যুবক বাড়ির সামনে আসে। ওই সময় এলাকায় লোডশেডিং চলছিল। অন্ধকারের সুযোগে তারা নিরাপত্তাপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে গেট বন্ধ করতে বাধ্য করে। প্রহরী সরে গেলে মূল ফটক লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং হেঁটে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
গুলির শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আলামত সংগ্রহ করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘অন্ধকারের সুযোগে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।’
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে হুন্ডি ব্যবসা ও লেনদেনসংক্রান্ত কোনো বিরোধের জের ধরে দেশে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে সম্প্রতি বিদেশে পলাতক ক্যাডার ‘বড় সাজ্জাদ’ বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চন্দনপুরায় ৫ কোটি টাকা দাবির পর সাবেক এক এমপির বাড়িতে গুলি, ১৩ জুলাই বাকলিয়ায় একটি ইন্টারনেট অফিসে ১ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে হামলা এবং ২৬ জুলাই হাটহাজারীতে ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে নির্মাণাধীন ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনাতেও একই চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে প্রবাসী ও ব্যবসায়ী পরিবারগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। পুলিশ বলছে, চাঁদাবাজ চক্রের সাথে জড়িতদের শনাক্তে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।


