...|...|...

সারাদেশ

কাশফুলের শুভ্রতায় মুগ্ধ খুলনাবাসী, ছুটছেন প্রিয়জনকে নিয়ে

মেহেদী হাসান, খুলনা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১:০০
Shares
কাশফুলের শুভ্রতায় মুগ্ধ খুলনাবাসী, ছুটছেন প্রিয়জনকে নিয়ে

প্রিয়জনের সাথে কাশফুলের রাজ্যে খুলনাবাসী। ছবি: টাইমস টুডে

নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা শুভ্র কাশফুল-শরৎ এলেই যেন বদলে যায় প্রকৃতির চেনা রূপ। আর এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখন আর শহর পেরিয়ে দূরে কোথাও যেতে হচ্ছে না। খুলনা নগরীর কেডিএ ময়ূর আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে শরতের এক টুকরো গ্রামবাংলা। কাশফুলের ঢেউ, মৃদু বাতাস আর নীল আকাশের মিতালি মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিচ্ছে নগরজীবনের ব্যস্ততা ও ধুলোমাখা কোলাহল। শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

শরতের কোমল রোদে সাদা কাশফুলগুলো যেন আরও ঝলমলে হয়ে উঠেছে। হালকা বাতাসে দুলছে সারি সারি কাশফুল। প্রকৃতির এই শুভ্র আয়োজন জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। নগরীর ব্যস্ততা আর ধুলোমাখা পথ পেরিয়ে কেডিএ ময়ূর আবাসিকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর তার নিচে দুলতে থাকা কাশফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের।

দর্শনার্থী শেখ বাপ্পি বলেন, সারাদিন অফিসের ব্যস্ততা শেষে বাসায় ফেরার পথে বাতাসে দুলতে থাকা শুভ্র কাশফুলের সৌন্দর্য তাঁকে এখানে টেনে এনেছে। নগরজীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটাতেই তাঁর এই ছুটে আসা।

দর্শনার্থী পারভেজ হাওলাদার বলেন, এর আগে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে এসেছিলেন তিনি। জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁর এতটাই ভালো লেগেছিল যে, এবার সেই আনন্দ পরিবারের সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে তাঁদের নিয়ে এসেছেন।

বাবার সাথে ঘুরতে এসে দারুণ খুশি ১০ বছর বয়সী রূপকথা। সে বলে, এখানে এসে আমার খুবই ভালো লাগছে। সবাই ছবি তুলছে, আমিও ছবি তুলেছি। এখানকার পরিবেশটা অনেক সুন্দর।

ক্যামেরা হাতে স্মৃতি নামের এক তরুণীও ব্যস্ত পছন্দের মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করতে। চারপাশের সৌন্দর্য আর মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ তিনিও। কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ আবার প্রিয়জনের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো ধরে রাখছেন ক্যামেরায়। কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সাথে, আবার কেউ একান্ত আপনজনকে সাথে নিয়ে উপভোগ করছেন শরতের সৌন্দর্য।

শুধু কাশফুল দেখা নয়, প্রকৃতির এই শুভ্র সৌন্দর্যের মাঝে কয়েক মুহূর্ত প্রশান্তির খোঁজেও এখানে আসছেন অনেকে। ব্যস্ত নগরজীবন থেকে একটু বিরতি, প্রিয়জনের সাথে কিছুটা সময় কাটানো আর স্মৃতি ধরে রাখার আয়োজন-সব মিলিয়ে কেডিএ ময়ূর আবাসিক এলাকা হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের ঠিকানা।

শহরের বুকেই শরতের এমন আয়োজন যেন ব্যস্ত জীবনে এনে দিয়েছে এক টুকরো স্বস্তি। নীল আকাশ আর শুভ্র কাশফুলের মিতালিতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। প্রকৃতির এই অনাবিল সৌন্দর্য কিছু সময়ের জন্য হলেও ভুলিয়ে দিচ্ছে নগরজীবনের ক্লান্তি ও ব্যস্ততা।