গাজীপুরের শ্রীপুরে এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এঘটনার পর ওই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।
অভিযুক্ত মো. রিজভী (২৪) শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। সে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।
এ ঘটনায় রিজভী, তার বাবা মনির হোসেন ও মা নিলুফা আক্তারকে অভিযুক্ত করে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীকে কলেজ যাওয়া আসার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো ছাত্রদল নেতা রিজভী। বিষয়টি ছাত্রী তার পরিবারে জানালে ছাত্রদল নেতা রিজভীকে শাসন করে ছাত্রীর পরিবার। তবুও উত্ত্যক্ত করতেই থাকে রিজভী।
রিজভীকে থামাতে না পেরে বিষয়টি রিজভীর মা নিলুফা বেগম ও মনির হোসেনকে জানালে তারা রিজভীকে কোনো শাসন না করেই ছাত্রীর বাড়িতে বিয়ে প্রস্তাব পাঠালে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় ছাত্রীর পরিবার। বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় রিজভী।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে কলেজ ছাত্রী তার বাসার সামনে দোকানে কেনাকাটা করতে যায়। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন সহযোগী নিয়ে উপস্থিত ছিল রিজভী। দোকানের সামনে যাওয়া মাত্রই কলেজ ছাত্রীকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যায় ছাত্রদল নেতা রিজভী।
এঘটনার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে ২৮ সেপ্টেম্বর গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক সরকার মো. রাকিব হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে রিজভীকে বহিষ্কার করে গাজীপুর জেলা ছাত্রদল।
বক্তব্য জানতে ছাত্রদল নেতা রিজভী মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) সোহাগ হোসেন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় রিজভীকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, সোমবার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কলেজ ছাত্রীর স্বজনদের দেখানো অনুযায়ী প্রত্যেকটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


