কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গত ১২ বছরে লাইফগার্ড সদস্যরা ১ হাজার ৪৩ জন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তবে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আরও বেশি লাইফগার্ড নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।
‘বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে শনিবার (২৫ জুলাই) লাবনী পয়েন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইপিআরবির সিসেফ (SeaSafe) প্রকল্পের ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার হাফেজ আহমেদ।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই) এবং প্রিন্সেস শার্লিন অব মোনাকো ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত সিসেফ প্রকল্পের আওতায় গত ১২ বছরে ১,০৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৯ হাজার শিশুকে বিনামূল্যে সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং প্রায় ৫০ লাখ পর্যটকের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
হাফেজ আহমেদ বলেন, সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নে সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো গেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে এবং দেশের পর্যটনশিল্পও আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে লাইফগার্ডদের উদ্ধার কার্যক্রম ও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রদর্শনী, সচেতনতামূলক র্যালি এবং পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা চালানো হয়। সৈকত ব্যবসায়িক সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৫০-৬০ জন এতে অংশ নেন।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে-২০২৩ অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ২৫ জুলাই বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়।


