...|...|...

সারাদেশ

কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ আরও একজনের লাশ উদ্ধার

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৭
Shares
কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ আরও একজনের লাশ উদ্ধার

কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ আরও একজনের লাশ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপ সৈকতে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া আরও এক পর্যটকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. হারুন (২০)। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার মো. কবিরের ছেলে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন পর্যটক।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে মেরিন ড্রাইভ সড়কের রামু উপজেলার পেঁচারদ্বীপে জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এর আগে ওই ঘটনায় তিন পর্যটকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। নতুন করে হারুনের লাশ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

নিখোঁজ অপর পর্যটক হলেন ঢাকার আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা নাফিসুল হক নিবিড় (২২)। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত পাঁচ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মুকাররম হোসেনের ছেলে রোহান (২৩), শহীদুল ইসলাম (২৩) এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার মো. আকাশ (২১)।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, পর্যটকদের দুটি দল পেঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন রেজুখাল পেরিয়ে খাল ও সমুদ্রের মাঝখানে জেগে ওঠা একটি চরে ঘুরতে গিয়েছিল। বিকেলের দিকে জোয়ার শুরু হলে পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে চরটি পানিতে তলিয়ে গেলেও পর্যটকেরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে তারা পানিতে ডুবে যান।

স্থানীয় লোকজন চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটকদের তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে তল্লাশি চলছিল। পরে হারুনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান, একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর মো. হেলালের ছেলে মো. আকাশ। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সানী ও আকাশ জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে করে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। আগে থেকে বুকিং করা পেঁচারদ্বীপের একটি রিসোর্টে ওঠার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। পরে রেজুখাল পেরিয়ে চরে চলে যান। একইভাবে অন্য একটি পর্যটক দলের সদস্যরাও খাল পেরিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। এরপরই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান জানান, উদ্ধার করা লাশগুলো হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। নিখোঁজ অপর পর্যটকের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।