স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী নভেম্বরে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম। এরপর ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে ইসির।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য হালনাগাদ করে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ জানান, কক্সবাজারে ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন ২০২১ সালের ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি জানান, এরই মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি এবং রামু উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে দুটি ইউনিয়ন প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসন মৌজা তালিকা প্রকাশ করেছে।
ফলে রামু ও সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নাও হতে পারে। এছাড়া পেকুয়া উপজেলার একটি এবং চকরিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তফসিল পিছিয়ে যেতে পারে।
জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে এসব ৯টি ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ৬২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল চলতি মাসের শেষ দিকে ঘোষণা হতে পারে বলে জানান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। ফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কক্সবাজারের ৬২টি ইউনিয়নে ভোট হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, টেকনাফ, উখিয়া ও রামু উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন বিভাজনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন থেকে বিভাজন সংক্রান্ত কোনো চিঠি না আসায় আপাতত ৬২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করে বলা যায়। তিন ধাপে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
মো. আব্দুল আজিজ বলেন, গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইসিতে পাঠানো চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা পাওয়ার পর কমিশন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তথ্য ছক আকারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনে পাঠানো তথ্যের মধ্যে রয়েছে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রথম সভার তারিখ, প্রথম সভার পর পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার তারিখ, নির্বাচন হওয়ার ১৮০ দিন আগে ও পরের সময়সীমা, ইউনিয়নের সীমানা, ওয়ার্ড বিন্যাস, ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস, মামলা সংক্রান্ত তথ্য এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী কি না-এসব বিষয়।
জেলা নির্বাচন অফিস থেকে পাঠানো এসব তথ্যের ভিত্তিতে জেলার ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে তিন ধাপে নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ভোটকেন্দ্র যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে মানুষ একটি নির্বাচনি উৎসবের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের হালনাগাদ তথ্য, বুথের সংখ্যা এবং কেন্দ্রগুলো নির্বাচন উপযোগী কি না-এসব যাচাই-বাছাই করে ছক আকারে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিস স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে।


