...|...|...

শিক্ষা

কওমি মাদরাসার পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:২৪ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৪
Shares
কওমি মাদরাসার পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস

কওমি মাদরাসার পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস। ছবি: টাইমস টুডে গ্রাফিক্স

কওমি মাদরাসার পাঠ্যক্রমে এবার যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোচিত ঘটনা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ (বেফাক)। 

গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি শাপলা চত্বরের ঘটনাও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসেই এ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। 

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে আলেম, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর সে সময়ের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার নির্মম নির্যাতন চালায়। মূলত শাপলাই ছিল ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনের সূচনা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদী সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় শহীদ ও নিখোঁজের সংখ্যা ৬১ জন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ১৪ শতাধিক মানুষ শহীদ হন।

শাপলা থেকে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বেফাকের সিলেবাসে যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি দেয় শাপলা স্মৃতি সংসদ, সাধারণ আলেম সমাজ ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সসহ নানা সংগঠন।

শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘শাপলা গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও প্রামাণ্য ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানায় শাপলা স্মৃতি সংসদ। পাশাপাশি প্রতি বছর মে মাসে দেশের সব কওমি মাদরাসায় ঘটনাটি স্মরণে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণানুষ্ঠান আয়োজনের দাবি জানানো হয়।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থী ও আলেম সমাজের অবদান পাঠ্যক্রমে তুলে ধরার পাশাপাশি শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নীতিগত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানায় সাধারণ আলেম সমাজ।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদি আযহারী বলেন, আমি মনে করি, শাপলা চত্বর, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত না হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে এ প্রজন্মের আলেমদের। কারণ সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে কোনো অপশক্তির আরোপিত বয়ানই একসময় ইতিহাসের একমাত্র বয়ান হয়ে উঠতে পারে।