...|...|...

সারাদেশ

সরাইল থানায় ওসির সাথে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডা, কী ঘটেছিল

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:১১ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:২৪
Shares
সরাইল থানায় ওসির সাথে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডা, কী ঘটেছিল

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সাথে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এ সময় পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ঘুষ গ্রহণ ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া নিয়ে ওসির সাথে কথা বলছেন রুমিন ফারহানা। একপর্যায়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি তো অনেক বড় আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন বাসিন্দাও পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন।

তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে মারধর করে তার পা ভেঙে দিয়েছে এবং তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। এ ছাড়া এক পুলিশ সদস্য তার ছোট শিশুকে চড় মেরেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করতে শোনা যায়। ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দাবি করেন, সংসদ সদস্যের শেখানো কথাই বলছেন ওই অভিযোগকারী।

এ বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে নিরাপত্তা পেলেও সরাইলে তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বারবার ফোন করা হলেও ওসি তার ফোন ধরেননি বলেও দাবি করেন এই সংসদ সদস্য।

এ সময় ওসির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন রুমিন ফারহানা। তার অভিযোগ, সরাইলের মতো সংঘাতপ্রবণ এলাকায় বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় না।

ঘটনার সময় থানায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাদের কেউ কেউ ওসির অপসারণ দাবি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলতে দেখা যায় ভিডিওতে।

অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় এসে হইচই করে মব সৃষ্টি করেছেন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।’ তবে আগের তুলনায় এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা অনেকটা কমেছে বলে দাবি করেন ওসি।

সংসদ সদস্যের সাথে থাকা ব্যক্তিদের তোলা অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ তাকে শিখিয়ে আনা হয়েছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘পুলিশের জনবলসংকট রয়েছে। যে পরিমাণ ফোর্স আছে, তা দিয়ে থানা পরিচালনা করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সময় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসদ সদস্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সে সময় ব্যক্তিগতভাবে তার সাথে পুলিশের দল রাখা কঠিন ছিল।’

ওসি আরও বলেন, ‘সংসদ সদস্য গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’