...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

ওয়াই-ফাইয়ে ধীরগতি? টেকনিশিয়ান ছাড়াই সমাধানের ৫ উপায়

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:০৩ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:১১
Shares
ওয়াই-ফাইয়ে ধীরগতি? টেকনিশিয়ান ছাড়াই সমাধানের ৫ উপায়

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে টিভি, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে স্মার্ট স্পিকার- প্রায় প্রতিটি ডিভাইসের জন্যই বাড়ির ওয়াই-ফাই সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয়। একই নেটওয়ার্কে একসঙ্গে অনেকগুলো ডিভাইস যুক্ত থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে, যার ফলে অ্যাপ ডাউনলোড, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা ভিডিও কলের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে গেলেই যে প্রতিবার টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিতে হবে, এমনটা নয়। কিছু সহজ পদক্ষেপ নিলেই অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির ওয়াই-ফাইয়ের কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

রাউটারের সঠিক অবস্থান নির্বাচন
ওয়াই-ফাইয়ের গতি ও কভারেজের ক্ষেত্রে রাউটার কোথায় রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাড়ির মোটামুটি কেন্দ্রীয় ও খোলামেলা কোনো স্থানে রাউটার রাখলে সিগন্যাল সব দিকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেয়াল, বড় ফার্নিচার বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতার আড়ালে রাউটার রাখা এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি মাইক্রোওয়েভের মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কাছাকাছিও রাউটার না রাখাই ভালো।

উপযুক্ত ব্যান্ড ব্যবহার
আধুনিক অনেক রাউটারে ২.৪GHz এবং ৫GHz- উভয় ধরনের ব্যান্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকে। রাউটারের কাছাকাছি থাকা ডিভাইসের জন্য সাধারণত ৫GHz ব্যান্ড তুলনামূলক বেশি গতি দিয়ে থাকে, তাই ভিডিও কল, অনলাইন গেমিং বা ভারী ডেটা ব্যবহারের সময় এটি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে ২.৪GHz ব্যান্ড দূরত্ব বেশি হলেও এবং দেয়াল থাকলেও তুলনামূলক ভালোভাবে সিগন্যাল পৌঁছাতে সক্ষম। তাই ডিভাইসের অবস্থান ও ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করে উপযুক্ত ব্যান্ড বেছে নেওয়া যেতে পারে।

প্রয়োজনে রাউটার রিস্টার্ট করা
অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মতো রাউটারেও মাঝেমধ্যে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাউটার সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করলে সংযোগজনিত অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে নিয়মিত বিরতিতে রাউটার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, বরং সমস্যা দেখা দিলেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস অপসারণ
নেটওয়ার্কে ঠিক কতগুলো ডিভাইস যুক্ত রয়েছে, তা অনেকেই খেয়াল করেন না। পুরোনো ফোন, ট্যাবলেট বা স্মার্ট টিভির মতো ডিভাইস অপ্রয়োজনীয় হলেও নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থেকে যেতে পারে। রাউটারের অ্যাপ বা সেটিংস থেকে সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা দেখে অপ্রয়োজনীয়গুলো বাদ দিলে নেটওয়ার্কের ওপর চাপ কমানো সম্ভব।

প্রয়োজনে রাউটার আপগ্রেড
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে পুরোনো রাউটারগুলো নতুন প্রজন্মের ডিভাইস বা উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের সঙ্গে তাল মেলাতে না-ও পারে। অন্যান্য সমাধান চেষ্টা করার পরও যদি গতি ও কভারেজে সমস্যা থেকে যায়, তাহলে আধুনিক প্রযুক্তি সমর্থিত নতুন রাউটারে আপগ্রেড করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

সমস্যা থেকে গেলে করণীয়
রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন, উপযুক্ত ব্যান্ড ব্যবহার, রিস্টার্ট এবং অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস অপসারণের পরও যদি ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা থেকে যায়, তাহলে বিষয়টি কেবল রাউটারের কারণে নাও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযোগ, লাইনের ত্রুটি বা দুর্বল সিগন্যাল কভারেজ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।