বাসার কোনো কোনো কোণে ওয়াই-ফাই সিগনাল একদমই পৌঁছায় না- এমন সমস্যায় ভোগেননি এমন মানুষ কমই আছে। সাধারণত এর সমাধান হিসেবে নতুন এক্সটেন্ডার, মেশ নোড বা শক্তিশালী রাউটার কেনার কথাই মাথায় আসে। কিন্তু প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের একটি প্রতিবেদন বলছে, এই সমস্যার সমাধান হয়তো আপনার ড্রয়ারেই পড়ে আছে- একটি অব্যবহৃত পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন।
পুরোনো ফোন কেন ফেলে না দিয়ে কাজে লাগাবেন
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়া ফোনও একেবারে অকেজো নয়। ই-বর্জ্য হিসেবে দিয়ে দেওয়ার আগে সেটির সম্ভাবনা একবার যাচাই করে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
ঘরের যেখানে নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে একটি চার্জার আর মূল ওয়াই-ফাইয়ের সংকেতের আওতায় ফোনটি রেখে দিলেই সেটি একটি ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার বা রিপিটার হিসেবে কাজ করতে পারে।
এর জন্য আলাদা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড, হার্ডওয়্যার কেনা বা বিশেষ কারিগরি জ্ঞানের দরকার হয় না- অ্যান্ড্রয়েডের নিজস্ব হটস্পট ফিচারই যথেষ্ট।
এই পদ্ধতি আসলে কীভাবে কাজ করে
পুরোনো ফোনটি প্রথমে মূল ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়, এরপর সেই সিগনালকেই একটি নতুন হটস্পট আকারে পুনরায় সম্প্রচার করে।
ফলে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা স্মার্ট টিভির মতো অন্য ডিভাইসগুলো সহজেই সেই নতুন সিগনালের সাথে যুক্ত হতে পারে। মূল রাউটার থেকে সিগনাল নিয়ে অন্য ডিভাইসে রিলে করার এই পদ্ধতিতে বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই দুর্বল সিগনালের সমস্যা মেটানো যায়।
ধাপে ধাপে যা করবেন
১. পুরোনো ফোনটি খুঁজে বের করে পুরোপুরি চার্জ দিন এবং সম্ভাব্য সব সফটওয়্যার আপডেট সম্পন্ন করে নিন।
২. সেটিংস → নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট → ইন্টারনেট থেকে ঘরের মূল ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বেছে নিয়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে সংযোগ নিশ্চিত করুন।
৩. সেটিংস → হটস্পট অ্যান্ড টিথারিং থেকে ‘ওয়াই-ফাই হটস্পট’ চালু করুন। চাইলে নোটিফিকেশন বার থেকেও সরাসরি চালু করা যায়।
৪. হটস্পট অপশনে গিয়ে সহজে মনে রাখার মতো একটি নাম ও নিরাপত্তার জন্য একটি পাসওয়ার্ড ঠিক করে দিন।
৫. ফোন সাপোর্ট করলে কাছাকাছি দূরত্বের জন্য ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড বেছে নিন- এতে গতি বেশি পাওয়া যায়। দূরত্ব বেশি হলে ২.৪ গিগাহার্টজ বেশি কার্যকর।
৬. রাউটার আর সিগনাল-দুর্বল জায়গার মাঝামাঝি কোনো স্থানে ফোনটি রাখুন, এবং সেটি চার্জার-সংযুক্ত রাখুন—কারণ হটস্পট সবসময় চালু থাকলে ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা
- এতে সিগনালের পরিধি বাড়ে ঠিকই, কিন্তু মূল ইন্টারনেটের গতি বাড়ে না। ইন্টারনেট সংযোগ আগে থেকেই ধীরগতির হলে এই পদ্ধতিতে তা দ্রুত হবে না।
- বাণিজ্যিক এক্সটেন্ডারের তুলনায় এর কার্যক্ষমতা কিছুটা সীমিত।
- ডেডিকেটেড এক্সটেন্ডারের মতো এতে অটো-রোমিং সুবিধা নেই, তাই ঘরের ভেতরে চলাচলের সময় মাঝেমধ্যে ম্যানুয়ালি নেটওয়ার্ক বদলাতে হতে পারে।
পুরোনো ফোন নাকি বাণিজ্যিক সমাধান
এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করে ব্যক্তিগত প্রয়োজন আর বাজেটের ওপর। সাময়িক বা নির্দিষ্ট একটি জায়গার জন্য বাড়তি নেটওয়ার্ক দরকার হলে পুরোনো ফোন দিয়েই বিনা খরচে কাজ চালানো যায়।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পুরো বাড়িতে নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির কভারেজ চাইলে বাণিজ্যিক ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার, মেশ নোড বা নতুন রাউটারই ভালো সমাধান।
মনে রাখা দরকার, এই পদ্ধতি একটি সাময়িক ও ব্যবহারিক বিকল্প মাত্র- স্থায়ী নেটওয়ার্ক সমাধান নয়।
তথ্যসূত্র:
প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের একটি প্রতিবেদন অবলম্বনে।


