সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার পর বিমানবন্দরে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এ এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নাসরুল্লাহ বদরপুরিসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হন। অপর নিহত ব্যক্তি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের শাহেদ আহম্মেদ। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বিমানবন্দরে বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
নাসরুল্লাহ বদরপুরির মৃত্যুর খবর বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তার ভগ্নীপতি মাওলানা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, শনিবার সকালে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছিলেন নাসরুল্লাহ। আগামী ২৪ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা ছিল।
নাসির উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াদে পৌঁছানোর পর নাসরুল্লাহর দুই ঘণ্টার ট্রানজিট ছিল। সেখান থেকে অন্য একটি ফ্লাইটে তার মক্কায় যাওয়ার কথা। ফ্লাইটে ওঠার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময়ই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ওমরাহ দলের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন।
নাসরুল্লাহ যে দলের সাথে ওমরা পালনে গিয়েছিলেন, সেই দলে মোট ৪৫ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩২ জন হামলায় অক্ষত রয়েছেন বলে জানান তার ভগ্নীপতি। তবে নাসরুল্লাহ প্রাণ হারিয়েছেন। অপর এক বাংলাদেশি দুই পা হারিয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, হামলায় আহত চার বাংলাদেশি সৌদি আরবের কিং খালিদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
রবিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করছে বাংলাদেশ মিশন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১০ অক্টোবরের এ হামলায় বিভিন্ন দেশের বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার পর বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করায় রবিবার ঢাকা-রিয়াদ রুটে পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট রয়েছে।
এ ছাড়া হামলার সময় বিমানবন্দরে অবস্থান করলেও অক্ষত থাকা বাংলাদেশি যাত্রীদের দুটি হোটেল ও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র।


