বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, একাত্তরের চেতনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এমন এক রাজনীতি করা হয়েছে, যা জাতির মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি ও স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমাদের সবসময়ই শেখানো হয় একাত্তরের চেতনা। এই চেতনার ব্যবসা করে জাতির মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রাখা হয়েছে।
তার দাবি, একটি জাতিকে এগিয়ে যেতে হলে বিভক্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি জার্মানি ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের উদাহরণ টেনে বলেন, যুদ্ধ ও বিপর্যয়ের পরও অনেক দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কারণ তারা নিজেদের জাতিকে বিভক্ত করে রাখেনি।
তিনি আরও বলেন, আমি এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছি, এ দেশের আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছি। কিন্তু ৯০ সালের পরে জন্মগ্রহণ করলেও আমাকে রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বা গুপ্ত বলা হয়। এমনকি হত্যা বা দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথাও বলা হয়।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, তিনি দেশের নাগরিক হিসেবে কর দেন, দেশ ও জাতি নিয়ে ভাবেন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা মানুষের সম্পদ লোপাটের সাথে জড়িত নন। তারপরও তাকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাদ্দাম বলেন, যুদ্ধের সময় জন্ম না হলেও আমি নাকি চেতনায় রাজাকার। এর মানে হলো, জাতিকে সামনে এগিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বিগত ৫৫ বছরে দেশের প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে এটিও অন্যতম একটি কারণ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পূর্ব শিবিরের সভাপতি মোহা. আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহ হোসাইন আহমদ মেহদীসহ অন্যরা।


