কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সরকারি সমন্বয় তদারকিতে নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামে এ টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স জে ক্লেটন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ট্রাম্প জানান, নতুন টাস্কফোর্সের লক্ষ্য হবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রাখা, একই সঙ্গে জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে দেখা। ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন।
টাস্কফোর্সটি ভোক্তা, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংগঠন, ধর্মীয় গোষ্ঠী, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সেবাদাতা এবং এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ফেডারেল সরকারের যোগাযোগ ও কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
জে ক্লেটনের পাশাপাশি এ দলে থাকবেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, পেন্টাগনের গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপোর। দলটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে।
নতুন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা আসে হোয়াইট হাউসে শীর্ষ এআই কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর। বৈঠকে গুগল, অ্যানথ্রপিক, মেটা, এনভিডিয়া, এক্সএআই ও ওপেনএআইসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একটি স্বেচ্ছাসেবী নীতিগত অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেন, যার আওতায় নিজেদের এআই ব্যবস্থার জন্য অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও বাহ্যিক নিরীক্ষার মতো ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
ক্লেটন গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে এর ঝুঁকি, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কও বাড়ছে। এর মধ্যেই ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, এআইয়ের সুফল পেতে হলে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া লাগতে পারে এবং প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের নাগালে থাকা উচিত। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ডেভিড রবিনসন সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের নতুন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ সেই বিতর্কের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এআই নীতি, ঝুঁকি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা সমন্বয়ের একটি কেন্দ্রীয় কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।


