ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী সরকারকে অবিলম্বে ক্ষমতাচ্যুত করে নতুন একটি ‘জাতীয় জরুরি সরকার’ গঠনের লক্ষ্যে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দলগুলো। অচলাবস্থা নিরসনে নেতানিয়াহুকে হটিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নতুন সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন তারা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-র এক প্রতিবেদনে এই সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তেল আবিবের উত্তরাঞ্চলীয় হার্জলিয়া শহরে প্রথমবার যৌথ বৈঠকে মিলিত হন ইহুদি নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। উল্লেখ্য, ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ কোনো একক জোট কিংবা দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির রাজনীতিতে এক মারাত্মক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এমন এক জটিল মুহূর্তে দেশটির নতুন সরকার গঠনের ভার কার ওপর ন্যস্ত করা হবে, তা নিয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ বৈঠক শুরু করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ঠিক এর একদিন আগেই বিরোধী নেতাদের মধ্যে গাদি আইজেনকটকে সমর্থনের এই সমঝোতা ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পটপরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বিরোধী নেতারা নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের সব দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সুপারিশ করবে। একই সাথে নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণ ও সম্ভাব্য জোট চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া তৈরির উদ্দেশ্যে দলগুলোর প্রতিনিধিরা অবিলম্বে কাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঐতিহাসিক এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে স্বয়ং গাদি আইজেনকট ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান, ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইয়েশ আতিদ পার্টির প্রধান ও সাবেক বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা আইজেনকটের উত্থাপিত চারটি মূলনীতির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেন। এসব মৌলিক শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো—নতুন সরকারের অংশীদার হতে হলে সব দলকে ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল ‘হামাস’-কে একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করতে হবে।
তবে বিরোধী জোটের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের ভেতরেও বেশ কিছু কৌশলগত জটিলতা ও মতপার্থক্য থেকে গেছে। বিশেষ করে নাসেটে থাকা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে ইহুদি নেতাদের মধ্যে এখনও পুরোপুরি ঐকমত্য তৈরি হয়নি। অথচ নেতানিয়াহুকে আটকে নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক নম্বর অর্জনে এসব আরব দলের সমর্থন শেষ পর্যন্ত অন্যতম প্রধান নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, আইজেনকটের দেওয়া কঠোর শর্তের কারণে আরব কেন্দ্রিক দলগুলো এই সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বৈঠক শেষে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের হাতে অপচয় করার মতো একেবারেই সময় নেই। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।


