চলতি বছরের শেষেই ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪০০ কোটি ডলারের (প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা) আর্থিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তার একটি চুক্তি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের এখন এই বিপুল অঙ্কের মার্কিন সহায়তার আর কোনো প্রয়োজন নেই।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে বিবি (নেতানিয়াহু) ও আমি একটা চুক্তি করেছি। আমরা কয়েক মাস আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই অর্থ দেওয়া বন্ধ করা হবে। আমরা একমত হয়েছি যে চলতি বছরের পর আর ইসরায়েলকে কোনো অর্থ দেব না।’ তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন দেখা দিলে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ইসরায়েলকে বিপুল অঙ্কের সহায়তা দেওয়া নিয়ে চলা রাজনৈতিক সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই অনুদান নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে। বর্তমানে কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তেল আবিব প্রতিবছর প্রায় ৩৮০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা পেয়ে আসছে, যার মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি নেতানিয়াহুর কার্যালয়। ২০২৩ সালে গাজায় সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন হ্রাস পেয়েছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সহায়তার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই এমন একতরফা সামরিক সহায়তার তীব্র বিরোধী। এমন এক বাস্তবতায় ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনার মুখেই এই অনুদান বন্ধের ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।


