...|...|...

বিশ্ব

ইরানে মোসাদ এজেন্টদের ফুটেজ ফাঁস নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৫৯ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১:০৩
Shares
ইরানে মোসাদ এজেন্টদের ফুটেজ ফাঁস নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: এআই

ইরানে নিজেদের গোয়েন্দা এজেন্টদের গোপন অভিযানের ভিডিও ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রকাশ করেছিল ইসরায়েল। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে গণহারে গ্রেফতারে উসকে দেওয়া, যাতে প্রকৃত ইসরায়েলি এজেন্টদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ডেভিড বার্নিয়া।

রবিবার (১ নভেম্বর) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। এতে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় এ কৌশল নিয়েছিল ইসরায়েল।

বার্নিয়া জানান, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরুর দিনই মোসাদের লোগোসংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ভেতরে অবস্থানরত এজেন্টদের সুরক্ষা দেওয়া। ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে ইরানের পাল্টা গোয়েন্দা সংস্থাকে বিভ্রান্ত করে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করানোই ছিল কৌশল।

বার্নিয়ার ভাষ্য, ইরানি কর্তৃপক্ষ যেন এত বেশি মানুষকে গ্রেফতার করে যে প্রকৃত এজেন্ট ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে—সেটিই চেয়েছিল মোসাদ। এতে একপর্যায়ে সন্দেহভাজনদের সবাইকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ইরানি কর্তৃপক্ষ।

মোসাদের সাবেক এই প্রধানের দাবি, সংঘাতের দ্বিতীয় দিনে ইরানি কর্তৃপক্ষ ২১ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের মধ্যে প্রকৃত এজেন্ট থাকলেও বিপুলসংখ্যক আটকের কারণে আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে আটক ব্যক্তিদের ছেড়েও দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

বার্নিয়া আরও বলেন, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে যাদের গ্রেফতার কিংবা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেরই মোসাদের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি কয়েকজনের পরিচয় সম্পর্কে মোসাদের কর্মকর্তারাও নিশ্চিত ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি।

তবে ইরানে আটক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে বার্নিয়ার এসব বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা ও নাশকতার হুমকি মোকাবিলায় এসব অভিযান চালানো হয়েছে।