...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

ইনস্টাগ্রামে নতুন প্রতারণার ফাঁদ, টাকা না দিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধের হুমকি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৫৬
Shares
ইনস্টাগ্রামে নতুন প্রতারণার ফাঁদ, টাকা না দিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধের হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

কনটেন্ট নির্মাতাদের অধিকার রক্ষার জন্য তৈরি হওয়া ইনস্টাগ্রামের কপিরাইট অভিযোগ ব্যবস্থাই এখন একদল প্রতারকের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

মেটা পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, প্রতারকরা সিস্টেমের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নির্মাতাদের অ্যাকাউন্ট আটকে দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছে।

প্রতারণার পদ্ধতি 

প্রথমে চক্রটি কোনো অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট পোস্টের বিরুদ্ধে ভুয়া কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা দেয়। ইনস্টাগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী একই অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ এলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক স্থগিত হয়ে যায়- অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই।

এরপর টেলিগ্রামের মতো ব্যক্তিগত মেসেজিং অ্যাপে ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ করে অভিযোগ তুলে নেওয়ার শর্তে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে আরও অভিযোগ দায়ের করে অ্যাকাউন্ট চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা 

ঐতিহাসিক ছবি নিয়ে কাজ করা ১৫ লাখেরও বেশি অনুসারীর অ্যাকাউন্ট ‘লস্ট ইন টাইম হিস্ট্রি’- এর পরিচালক অলি এমনই এক ভুক্তভোগী। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি যেসব ছবি ব্যবহার করেন তার বেশিরভাগই পাবলিক ডোমেইনের বা অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত।

একই ইমেইল থেকে বারবার অভিযোগ আসার পর তাকে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করে কয়েকশ ডলার দাবি করা হয়। শেষে অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে তিনি ৫০ ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করেন- কিন্তু তারপরও নতুন করে অভিযোগ আসতে থাকে, এবং একপর্যায়ে অ্যাকাউন্টের মনিটাইজেশনই বন্ধ হয়ে যায়।

‘মরবিড কিউরিওসিটি’ অ্যাকাউন্টের নির্মাতা আবিন টম সেবাস্টিয়ানও একই সমস্যায় পড়েছেন। সমস্যার সমাধান না হওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ড চুক্তি হাতছাড়া হয়ে যায় বলে জানান তিনি। তার আরও অভিযোগ, ইনস্টাগ্রামে দ্রুত সহায়তা পেতে হলে মাসে ৯.৯৯ পাউন্ডের ভেরিফায়েড সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়।

চক্রের ব্যাপ্তি ও মেটার প্রতিক্রিয়া

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রতারণায় জড়িতদের অধিকাংশের অবস্থান ভারত ও আশপাশের অঞ্চলে বলে জানা গেছে, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০০ ডলার পর্যন্ত দাবি করার তথ্য পাওয়া গেছে। এরা নিজেদের কপিরাইট মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করলেও তাদের প্রকৃত পরিচয় স্পষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা নতুন কিছু নয়, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন একই কৌশল বড় পরিসরে চালানো সহজ করে দিয়েছে, ফলে আসল ও ভুয়া অভিযোগ আলাদা করা প্ল্যাটফর্মের জন্যও কঠিন হয়ে উঠছে।

মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের হতাশা তারা বোঝেন। পর্যালোচনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কনটেন্ট ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে সিস্টেমে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।