...|...|...

রাজনীতি

বিবৃতিতে নাহিদ-আখতার

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ‘বিরোধী দল দমনের চক্রান্ত’

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫২ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৪৫
Shares
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ‘বিরোধী দল দমনের চক্রান্ত’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকে ‘বিরোধী দল দমনের চক্রান্ত’ ও ‘ফ্যাসিবাদী পথের পুনরাবৃত্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান দুদকের কোনো নৈতিক ও আইনি বৈধতা নেই। জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় কমিশন পুনর্গঠন করা হলেই কেবল নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব বলে তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, তা না হলে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান পরাজিত ফ্যাসিবাদের কায়দায় বিরোধী দল দমনের নতুন চক্রান্তে পরিণত হবে।

এর আগে বুধবার দুপুরে দুদকের এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বললেও পরে সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান।

এ ঘটনাকে দুদকের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ঘাটতি হিসেবে দেখছেন এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা। তারা বলেন, তদন্ত শুরুর আগেই কোনো কমিশন যদি পরস্পরবিরোধী তথ্য দেয়, তাহলে সেই কমিশনের অধীনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে তারা আরও অভিযোগ করেন, গত সাত মাসে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কাজ নেওয়া এবং জনগণের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠলেও দুদক এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি।

নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের অভিযোগ, বিরোধী দলগুলো যখন জনগণের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে, তখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমাতে দুদককে ব্যবহারের পুরোনো কৌশল আবারও সামনে এসেছে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, অতীতে দুদককে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে একই ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

এনসিপির নেতারা বর্তমান দুদক বাতিল করে জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে দুদককে ‘বিরোধী দল দমন কমিশনে’ পরিণত করার চেষ্টা বন্ধ করে সরকারের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।