ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন হারমানপ্রীত কৌর। গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবার ভারতকে শিরোপা এনে দেওয়া এই অধিনায়ক তিন ফরম্যাটেই নেতৃত্বের দায়িত্ব ছেড়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
হারমানপ্রীত ভারতকে পাঁচ টেস্ট, ৫১ ওয়ানডে ও ১৫৫ টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে তার শেষটাও হয়েছে শিরোপা জিতে। গত মাসে নিসিনে তার নেতৃত্বে ভারত টানা দ্বিতীয় এশিয়ান গেমস স্বর্ণপদক জেতে। এর আগে নারী দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে গুয়াহাটিতে সহঅধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ও প্রধান কোচ অমল মজুমদারকে সাথে নিয়ে বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়ার সাথে বৈঠক করেছিলেন হারমানপ্রীত। সেই বৈঠকের একদিন পরই নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে নিজের দীর্ঘ পোস্টে হারমানপ্রীত লিখেছেন, ‘আজ, আমি সমস্ত ফরম্যাটে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। এটা কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে বছরের পর বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন কিছু মুহূর্ত যা আমার বাকি জীবন জুড়ে থেকে যাবে।’
দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি এই দল এবং ভারতীয় নারী ক্রিকেটকে আমার কাছে থাকা সবটুকু দিয়েছি আমার রক্ত, আমার ঘাম, আমার সময় এবং বহুবার আমার নিজের খেলা ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার একটি অংশ। এমন অনেক মুহূর্ত ছিল যখন আমাকে আমার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, নিজের উন্নয়ন এবং নিজের চাওয়াগুলোকে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। কারণ আমি বিশ্বাস করতাম দলকেই সবার আগে রাখতে হবে।’
অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন হারমানপ্রীত। তিনি লিখেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমাকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এমন সব সিদ্ধান্ত যা সবসময় সবার কাছে বোধগম্য ছিল না, সহজ ছিল না এবং কখনও কখনও যার জন্য ব্যক্তিগত মূল্যও দিতে হয়েছে। কিন্তু আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে একটিই উদ্দেশ্য ছিল এই দলটিকে আরও সেরা করে তোলা এবং অন্য খেলোয়াড়দের বেড়ে ওঠার, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখার ও নিজেদের সেরা রূপ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়া।’
এই বছর জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার গ্রুপ পর্ব থেকেই ভারতের বিদায়ের পর নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। অমিত মিশ্রর নির্বাচক কমিটিও বিষয়টি নিয়ে বিভক্ত ছিল। তবে এর মধ্যেই ২০২৮ অলিম্পিক গেমসেও ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন হারমানপ্রীত।
তবে এবার দায়িত্ব ছাড়ার সময় দলকে নিয়ে আশাবাদী হারমানপ্রীত। তিনি বলেন, ‘আমি আজ আবেগে ভরা একটি হৃদয় নিয়ে অধিনায়কত্ব ছাড়ছি, তবে হৃদয়ে একই সাথে শান্তিও রয়েছে। কারণ আমি আসলেই বিশ্বাস করি আমার দল এখন একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। প্রতিভা, চরিত্র ও বিশ্বাসে ভরা এমন একটি দল, যার ভবিষ্যৎ দেখতে এবং তার অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত।’
নিজের দায়িত্ব পালনে তৃপ্তির কথাও জানিয়েছেন তিনি। হারমানপ্রীতের ভাষায়, ‘আমার মনে হয় আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আমি এই দলকে আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়েছি। আমি গর্বের সাথে এই দায়িত্ব বহন করেছি এবং ভারতীয় নারী ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দেওয়ার এই সুযোগের জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’
অধিনায়কত্ব ছাড়লেও ক্রিকেট থেকে সরে যাচ্ছেন না হারমানপ্রীত। খেলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ক্যারিয়ারের বাকি সময় মাঠে থাকতে চান তিনি। বিদায়ী বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘এখন, আমার নতুন অধ্যায় শুরু করার সময়। অধিনায়কত্ব আজ শেষ হতে পারে, কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালোবাসা কখনোই শেষ হবে না। ধন্যবাদ আমার প্রতিটি সতীর্থ, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, ম্যানেজমেন্ট, বিসিসিআই, পরিবারের সদস্য এবং প্রতিটি সমর্থককে, যারা আমার ভালো ও খারাপ সব সময়ে পাশে ছিলেন। এখন, আমি আবারও খেলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই মাঠে নামতে প্রস্তুত। অধিনায়কত্ব শেষ হলো। যাত্রা চলবে।’



