নারীর জীবনের স্বাভাবিক একটি পর্যায় মেনোপজ। তবে এই সময়ে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শারীরিক ও মানসিক নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবয়সে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সমস্যা অনেক সময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে আজ ১৮ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব মেনোপজ দিবস।
এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘মধ্যবয়সে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা’। আন্তর্জাতিক মেনোপজ সোসাইটি (আইএমএস) এ বছর মেনোপজের সময় ও পরবর্তী সময়ে নারীদের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার বিষয়টি সামনে এনেছে। সংস্থাটির লক্ষ্য, এ ধরনের ব্যথার যথাযথ মূল্যায়ন, চিকিৎসা ও গবেষণায় গুরুত্ব বাড়ানো।
২০০৯ সালে চালু করে আন্তর্জাতিক মেনোপজ সোসাইটি দিবসটি পালন করা শুরু করে। দিবসটির উদ্দেশ্য হলো মেনোপজ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, নারীদের স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা এবং এ সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া।
মেনোপজ কী?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের স্বাভাবিকভাবে মেনোপজ ঘটে। টানা ১২ মাস মাসিক না হলে এবং এর অন্য কোনো কারণ না থাকলে সাধারণত মেনোপজ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়। ডিম্বাশয়ের কার্যক্রম কমে যাওয়া এবং ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা হ্রাসের সাথে এ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত।
মেনোপজ আগে কয়েক বছর ধরে মাসিকের ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এ সময় গরম লাগা, রাতে ঘাম হওয়া, ঘুমের সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন, মনোযোগে অসুবিধা এবং শারীরিক অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে উপসর্গের ধরন ও তীব্রতা এক রকম হয় না।
এবারের প্রতিপাদ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। মধ্যবয়সে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে অস্বস্তি কিংবা আগে থেকে থাকা ব্যথার সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিনের ব্যথা দৈনন্দিন কাজ, ঘুম, চলাফেরা ও জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে সব ব্যথাকে শুধু মেনোপজের উপসর্গ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনোপজ কোনো রোগ নয়, বরং নারীর জীবনের স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তন। তবে এ সময় উপসর্গগুলো জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। উপসর্গের ধরন ও ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, উপযুক্ত চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা উপকারী হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও মেনোপজের সময় ও পরবর্তী পর্যায়ে নারীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা, পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বিশ্ব মেনোপজ দিবসের বার্তা হলো, নারীর মধ্যবয়সী জীবনের স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন নিয়ে নীরবতা ও সংকোচ দূর করা। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গকে অবহেলা না করে সঠিক তথ্য, সহানুভূতি ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।


