আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রাঙ্গণে আজও সচল ও সংরক্ষিত রয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক একটি জিপ গাড়ি। তৎকালীন সময়ে দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন করেছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তার উদ্যোগে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এরই অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুরে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
খননকাজের অগ্রগতি ও খাল পরিদর্শনের সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে জিপ গাড়িটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি বর্তমানে আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রাঙ্গণে সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। সময়ের ব্যবধানে গাড়িটি এখন দেশের কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মারক বা ঐতিহাসিক নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।
গাড়িটির বর্তমান চালক আলমগীর মিয়া জানান, তার বাবা মরহুম মো. জাহাঙ্গীর মিয়া ২৬ বছর এই গাড়িটি চালিয়েছেন এবং গত ২২ বছর ধরে তিনি নিজে এটি চালাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গাড়ির ইঞ্জিন সচল আছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য মাঝে মাঝে তিনি গাড়িটি চালিয়ে দেখেন। শহীদ রাষ্ট্রপতির স্মৃতি বিজড়িত এই গাড়িটি আজও আশুগঞ্জ সার কারখানার ভেতরে অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউসার বলেন, ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী এই জরাজীর্ণ জিপ গাড়িটিকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় এখনও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের সোনারামপুরে খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছিলেন এই গাড়িতে চড়েই। সে সময় একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূতসহ বিশিষ্টজনেরা তার সফরসঙ্গী হয়ে এই গাড়িতে চড়েছিলেন।
ইতিহাসের অমূল্য সাক্ষী এই গাড়িটি বর্তমানে আশুগঞ্জ সার কারখানায় যথাযথভাবে সংরক্ষণে রাখা হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরবে।


