...|...|...

অর্থনীতি

আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু রবিবার

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, দুপুর ২:৩৯ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৬
Shares
আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু রবিবার

ছবি: সংগৃহীত

নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন ঋণ কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ সফর শুরু করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবে। এসব বৈঠকে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এবং এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

সূত্র বলছে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরু করতে পারে আইএমএফ।

সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলা এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান।

চিঠিতে সরকার জানায়, আগের ঋণ কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিবর্তন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসছে না; বরং দেশের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় প্রায় পুরো অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক পর্যালোচনা করা হবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারের অগ্রগতি, কর-ব্যয়ের সংস্কার এবং আর্থিক খাতের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

ব্যাংকিং খাতও আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, খেলাপি ঋণ কমানোর কৌশল, ব্যাংক পুনর্গঠন ও অবসায়ন কার্যক্রমে অর্থায়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে আইএমএফ।

এ ছাড়া রাজস্ব আদায় কম হওয়ার কারণ, সরকারি ঋণ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয়ের বিষয়েও আলোচনা হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ ব্যয়ের দক্ষতাও আইএমএফের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। প্রতিনিধিদলের মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে পরবর্তী ধাপে পূর্ণাঙ্গ ঋণ আলোচনা শুরু হবে। সেখানে নতুন ঋণের পরিমাণ, অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এবং সংস্কারসংক্রান্ত শর্ত চূড়ান্ত করা হবে। তবে সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি নতুন ঋণের শর্ত আরও কঠোর হতে পারে।