অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী অর্থনীতি। চলতি বছর দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাবে বলে উঠে এসেছে এক জাতীয় প্রতিবেদনে।
‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী অর্থনীতি এখন আর সীমিত কোনো বিশেষায়িত বাজার নয়; বরং অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিকশিত হচ্ছে। খাদ্য, পর্যটন, পোশাক, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে মুসলিম ভোক্তাদের ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ইসলামী অর্থনীতিতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাতগুলোর একটি হলো মুসলিমবান্ধব পর্যটন। ২০২৮ সালের মধ্যে এ খাতে মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার (CAGR) ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাস করেন। তাদের ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাজার এখন একটি পরিমাপযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হালাল প্রসাধনী ও ওষুধ শিল্পেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাতে প্রায় ১০০ শতাংশ এবং হালাল ওষুধ খাতে ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এ ছাড়া হালাল পণ্য রফতানিতেও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী। বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য রফতানি করে দেশটি, যার ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। হালাল মাংস রফতানিতেও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ।
অন্যদিকে ইসলামী অর্থায়ন খাতেও সম্ভাবনা বাড়ছে। বর্তমানে দেশটিতে এ খাতে প্রায় ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিল রয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাতের পূর্ণ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামী অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে আরও কার্যকর হালাল সনদব্যবস্থা, ইসলামী অর্থায়নে সমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য রফতানি সহায়তা কাঠামো প্রয়োজন।
সূত্র: অস লেজার ডটকম


