...|...|...

সারাদেশ

অপ্রতীম হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ৩ আসামি

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:১২
Shares
অপ্রতীম হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ৩ আসামি

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩)। ছবি: টাইমস টুডে

মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩) মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজন দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুবদলকর্মী আবু কাউছার হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার এ তথ্য জানান।

জবানবন্দি দেওয়া তিনজন হলেন-সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতীমকে সাথে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে যায়। পরে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার সাথে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তুহিন অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তাকে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে।

তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় ফাহাদ ও তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতীম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজন কুমিল্লা কারাগারে রয়েছে। ফাহাদ ও কামরুল গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে আটক আছে।

অভিযুক্ত তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকার নুরে আলম ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। সে সদর দক্ষিণ থানার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অন্য অভিযুক্ত কামরুল হাসান কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া, কালিবাজার এলাকার আব্দুল কুদ্দুস ও কুলসুম আক্তারের ছেলে।

এ ঘটনায় আটক সিয়ামের বয়স ১৯ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার এলাহীপুর এলাকার সেলিম মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার দৌলতপুর এলাকার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।